ফুটবল মাঠে তখন ৮৫ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী রক্ষণের সামনে বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিল আর্জেন্টিনা। হারের শঙ্কায় যখন নীল-সাদা গ্যালারি স্তব্ধ, তখনই যেন রূপকথার জন্ম দিলেন লিওনেল মেসি। শেষ মুহূর্তের এক অসাধারণ গোলে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠজুড়ে তখন অবিশ্বাস্য উল্লাস। তবে মাঠের গোল উদযাপনের চেয়েও গ্যালারির ভিআইপি বক্সে থাকা স্ত্রী আন্তোনেল্লার দিকেই ছিল সবার নজর।
ম্যাচ শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে আবেগ আর ক্লান্তিতে নুয়ে পড়া মেসি সরাসরি ছুটে গেলেন গ্যালারির সেই পরিচিত মুখটির কাছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে আন্তোনেল্লাকে জড়িয়ে ধরার মুহূর্তটি যেন গোটা স্টেডিয়ামকে এক অভাবনীয় দৃশ্যের সাক্ষী করল। সেই তীব্র আবেগের মুহূর্তে মেসি নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,সারাটা সময় শুধু ঈশ্বরকে স্মরণ করছিলাম— আর তোমাকে।
এই বাক্যটি যেন মুহূর্তের মধ্যে খেলার মাঠের জয়কে ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিল। যে মানুষটি একটু আগেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, মেসির সেই ভালোবাসার আলিঙ্গনে তার চোখে তখন খুশির অশ্রু। জয় আর বেদনার এই মিশেল মুহূর্তটি বুঝিয়ে দিল,মাঠের কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপে যখন পিষ্ট হতে হয়,তখন একজন জীবনসঙ্গীর নিশ্চিন্ত আশ্রয়ই হয় একজন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই জয় কেবল তিন পয়েন্টের নয়,এটি ভালোবাসা আর বিশ্বাসের এক অনন্য বিজয়গাথা।


Leave a Reply