বাবার ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা সনদে ২৫ বছর চাকরি
বিশেষ প্রতিনিধি
মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে ২০০১ সালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন মো. শরিফুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, চাকরির ভিত্তি হিসেবে তিনি তার বাবা মো. মোশাররফ হোসেনের নামে একটি জাল বা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করেছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সনদটি ১৯৯৯ সালের ২৬ অক্টোবর ইস্যুকৃত দেখানো হলেও সেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষর রয়েছে। অথচ মুক্তিযোদ্ধা সনদে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর থাকার কোনো প্রচলিত নজির নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পর্যালোচনায়ও মোশাররফ হোসেনের নাম পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর বেবিচক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে।
শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে:
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেতে ভুয়া সনদ ব্যবহার। ২০১৭ সালে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার নির্মাণকাজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। বিভিন্ন প্রকল্প, রক্ষণাবেক্ষণ ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান চলে। এছাড়া কাওলা বেবিচক কোয়ার্টার সংস্কার কাজে প্রায় আড়াই কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ও কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চাকরির সময় জমা দেওয়া সনদ, মুক্তিযোদ্ধার সরকারি গেজেট ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু অসঙ্গতি নজরে এসেছে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না। তথ্যসূত্র যুগান্তর।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি গেজেটে নাম না থাকলে কাউকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। গেজেটই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত দলিল।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, বিভিন্ন অভিযোগ ও দুদকের মামলার পরও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শরিফুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এ পদোন্নতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি ভুয়া সনদের ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় কোটার অপব্যবহার, সরকারি চাকরিতে প্রতারণা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অধিকার ক্ষুণ্ন করার গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।


Leave a Reply