ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
বাউল ছালমার মাবনসেবা ও সমাজসেবার অব্যাশ স্কুলজীবন থেকেই।
সংগীতশিল্পী হিসেবেই পথচলা শুরু হয়েছে আজ থেকে প্রায় ২৭ বছর আগে।
এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য মানুষকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। কেউ ক্ষমতার আলোয় এসেছেন, আবার সময়ের সঙ্গে হারিয়েও গেছেন। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যাদের পরিচয় ক্ষমতায় নয় নিরব অনুশীলন ও সংগ্রামের, সততায় এবং অসহায় মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায়। বাউল “ছালমা” তাঁদেরই একজন।একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া একজন মানুষের জীবনের প্রতিটি ধাপই সহজ হয় না। অভাব, কষ্ট, অবহেলা আর অসংখ্য বাধা পেরিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হয়। ছালমা বেগমের জীবনও ঠিক তেমনই।
প্রতিটি ঘাত-প্রতিঘাতকে সঙ্গী করে তিনি আজ একজন বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের নিয়মিত সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, “সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী” ক্যাটাগরিতে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ জয়িতা ও রাষ্ট্রিয় দ্বিতীয়, ছালমা যুব সংস্থা ও শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, সাবেক নারী ইউপি সদস্য, সাবেক বাংলাদেশ মেম্বার কল্যাণ এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, স্থানীয় সংবাদকর্মী কর্তৃক পরিচালিত “রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাব” নামে একটি সকলজন পরিচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এছাড়াও একাধিক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি।
দেখা যায় এধরণের কোনো সংগঠনের নেতৃত্বে থাকলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, প্রশাসনের কর্মকর্তা কিংবা রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দায়িত্বেরই একটি অংশ। তবে এটি ব্যক্তি স্বার্থের নয়, বরং সংগঠন, মানুষের বা সমাজের বিভিন্ন সামাজি ও মানবিক কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনে।
কিন্তু দেখা যায় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি ছড়িয়ে দিয়ে ও সভা-সেমিনারে বিভিন্ন মিথ্যে ট্যাগ লাগিয়ে বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চালায়, তবে স্থানীয় নেটিজেনরা তাদের এই অপপ্রচারের তিব্র নিন্দাও জানান।
এসবনিয়ে ছালমা বেগম প্রতিবেদককে জানান যে, একটি স্থিরচিত্র কখনো একজন মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের ইতিহাসকে মুছে দিতে পারে না।
যে মানুষটি দীর্ঘ ২৭ বছর নানা প্রতিকূলতা, সামাজিক নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে পথ চলেছেন—সেই কঠিন সময়ে কজন মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন? কজন আমার কর্মের প্রশংসা করেছিলেন?
আজ যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথা সভা-সেমিনারে নানা ব্যাখ্যা দিয়ে আমাকে হেওপ্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের অনেককেই তখন দেখা গেছে নিয়ম-অনিয়মের মাধ্যমে স্ব-সুবিধা গ্রহনে ব্যাস্ত ছিলেন।
জাতি জানেন, দারিদ্র্যের কষ্ট যে মানুষ নিজে অনুভব করেছেন, তিনি অন্যের দুঃখও বুঝতে পারেন। গরিব মানুষের কান্না, অসহায় মানুষের আর্তনাদ এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মানবিক শক্তি, তা আসে নিজের জীবনের সংগ্রাম থেকে। বাউল ছালমার জীবন সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। মানুষকে মূল্যায়ন করতে হলে একটি ছবি নয়, একটি পোস্ট নয়, দেখতে হবে তাঁর পুরো জীবন, তাঁর কর্ম, তাঁর ত্যাগ এবং মানুষের জন্য তাঁর অবদান।
ইতিহাস সবসময় ক্ষণিকের প্রচারণা দিয়ে লেখা হয় না; ইতিহাস লেখা হয় সংগ্রাম, সততা, সাহস এবং মানবিকতার কালি দিয়ে।
সময়-ই শেষ পর্যন্ত সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। আর সত্যিকারের সংগ্রামী ও নিরলস মানুষকে সাময়িক অপপ্রচার কখনো পরাজিত করতে পারে না।
মানুষের ভালোবাসা, সম্মান এবং আস্থা, এগুলোই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়। সেই পরিচয়ই বহন করে চলছি আমি কণ্ঠশিল্পী মোসাঃ ছালমা বেগম (বাউল ছালমা)। আর বাকী জীবনও এভাবেই চালাতে চাই মানবসেবায়।


Leave a Reply