৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে পরকীয়ায় মত্ত স্বামী, বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ভুক্তভোগী পরিবার
মোঃ আনোয়ার হোসাইন
বিশেষ প্রতিনিধি(জামালপুর)
জামালপুরের দিগপাইত ইউনিয়নের জোয়ারের পাড়া গ্রামের অসহায় শারমিন আক্তার (২৪)। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারী বর্তমানে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে।
অভিযোগ রয়েছে, তার স্বামী বিল্লাল হোসেন (দিগপাইত ইউনিয়নের মেগা চরপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ৩য় পুত্র) স্ত্রীকে ফেলে অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে গাজীপুরের চন্দ্রা-শফিপুর এলাকায় অবৈধভাবে বসবাস করছেন। শুধু তাই নয়, স্ত্রীকে রেখে যাওয়ার সময় বিল্লাল সংসারের আসবাবপত্র ও যৌতুকের টাকাও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের।
ভুক্তভোগী শারমিন বলেন, “বিয়ে হওয়ার পর থেকেই আমাদের সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই আমার স্বামী বিল্লাল বদলে যেতে শুরু করে। সে আমাকে আমার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে আড়ালে চলে যায়। প্রথমদিকে ফোনে যোগাযোগ থাকলেও, এখন সে আমার সথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আমি এখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা, শরীর অত্যন্ত খারাপ, নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সামর্থ্যও আমাদের নেই। স্বামী থাকার পরেও আজ আমি পথে বসার উপক্রম। আমি শুধু আমার ওপর হওয়া অমানবিক আচরণের সঠিক বিচার চাই।”
শারমিনের খালা জানান, ৫ বছর আগে ধারদেনা করে নগদ এক লক্ষ টাকা যৌতুক, স্বর্ণালঙ্কার ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিয়ে বিল্লালের সাথে শারমিনের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের পর তারা ঢাকায় চাকরি করতেন। সম্প্রতি শারমিন অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে বিল্লাল কুমিল্লার আব্দুল আলীমের মেয়ে আন্নি নামে এক ফ্যাক্টরি সহকর্মীর সঙ্গে গাজীপুরে সংসার পেতেছেন। গত কয়েক মাস ধরে শারমিনের সঙ্গে বিল্লালের কোনো যোগাযোগ নেই।
শারমিনের বাবা তোফাজ্জল হোসেন (গুদু মিয়া), যিনি পেশায় একজন ভ্যান চালক, আক্ষেপ করে বলেন, “অত্যন্ত কষ্টে আমরা মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। এখন সে সন্তানসম্ভবা, অথচ তার স্বামী কোনো খোঁজ নিচ্ছে না। আমরা এই অমানবিকতার দ্রুত বিচার চাই।” তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিল্লাল হোসেনের গ্রামের বাড়ি মেগা চরপাড়ায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। বিল্লালের মা জানান, “আমার ছেলে ঢাকায় থাকে, ছেলের বউ বাবার বাড়িতে। আমার ছেলে অন্য কোথাও বিয়ে করেছে কি না তা আমি জানি না।” একইভাবে বিল্লালের পিতা আজিজুল হক মুঠোফোনে জানান, “ছেলে ও পুত্রবধূ বিয়ের পর থেকেই ঢাকা থাকে। সেখানে সে কী করছে, তা আমরা জানি না।”
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীগণ মন্তব্য করেন, “পারিবারিক এসব অস্থিরতা রোধে সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকা জরুরি। দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যারা এমন জঘন্য প্রতারণা করে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অমানবিক কাজ করার সাহস না পায়।”


Leave a Reply