রশিদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জমি দখলে ৫ পরিবার
মোঃ আনোয়ার হোসাইন
বিশেষ প্রতিনিধি
সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব চলছে জামালপুরের ১৫ নং রশিদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এরিয়ায়। বারবার উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করা হলেও তা অমান্য করে ভূমি অফিসের এরিয়ার ভেতরেই ৫টি পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে জোরপূর্বক বসবাস করে আসছে। কর্তৃপক্ষের বিকল্প আবাসন প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে দখলদারদের এই অনড় অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।অনুসন্ধানে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে জানা গেছে, ভূমি অফিসের জমি দখল করে থাকা ওই পরিবারগুলোর নিজস্ব বসতবাড়ি নির্মাণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। নিজেদের জমি থাকা সত্ত্বেও তারা সরকারি জমি আঁকড়ে ধরে আছে এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করছে। নিজস্ব সম্পদ থাকার পরও সরকারি জমি দখল করে রাখার এই মানসিকতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রশিদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সীমানার ভেতরেই পাঁচটি পরিবার ঘরবাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। সরকারি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এই বসতিগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমি দখল করে এভাবে থাকা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও দখলদাররা কোনো আইনের তোয়াক্কা করছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দখলদারদের মানবিক দিক বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত নির্দিষ্ট আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু দখলদাররা সেই সরকারি প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তারা সরকারি আবাসন গ্রহণ না করে উল্টো ভূমি অফিসের এই গুরুত্বপূর্ণ জমিটিই আঁকড়ে ধরে আছে।ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে একাধিকবার আইনি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু নোটিশের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও দখলদাররা জায়গা খালি করেনি। এতে প্রশাসনের আইনি সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “ভূমি অফিসের মতো একটি সরকারি দপ্তরে এভাবে ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি থাকাটা বেমানান। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের নিজেদের ঘর তোলার মতো জায়গা থাকলেও তারা এখানে জোর করে আছে। তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করা হোক।”
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এবং ভূমি অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। নোটিশের পরও যারা আইন মানছে না এবং নিজস্ব জমি থাকা সত্ত্বেও সরকারি জমি দখল করে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


Leave a Reply