মো:গিয়াস উদ্দিন
বিশেষ প্রতিনিধি:উখিয়া,(কক্সবাজার):
উখিয়ার তচ্ছাখালী খাল থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহত নারীর নাম রহিমা খাতুন (৩০)। তিনি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড, মরিচ্যা গরুর বাজার এলাকার বাসিন্দা। নিহতের স্বামীর নাম জসিম উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে “ঘুরতে যাওয়ার কথা” বলে রহিমাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় তার স্বামী জসিম উদ্দিন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তচ্ছাখালী খালে ভেসে ওঠে একটি বস্তা, যার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় রহিমা খাতুনের মরদেহ।
স্থানীয়দের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী জসিম উদ্দিনই স্ত্রী রহিমাকে নির্মমভাবে হত্যা করে বস্তায় ভরে গহ বৃহস্পতিবার( ৬/১১/২৫) খালে ফেলে দেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জসিম উদ্দিন স্থানীয় কয়েকটি এনজিও থেকে স্ত্রীর নামে ঋণ নিয়েছিলেন। সেই টাকা পরিশোধ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের টাকার বিরোধের জেরে ঝগড়ার এক পর্যায়ে জসিম উদ্দিন স্ত্রী রহিমাকে জবাই করে হত্যা করেন।
পরে স্থানীয় এক সবজি খেতে মরদেহ পুঁতে রাখেন তিনি। এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে চাইলে জসিম বলেন, “একটা গরু মরা গেছে, তাই পুঁতে ফেলেছি।” স্থানীয়দের সন্দেহ হলে , গভীর রাতে কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় তচ্ছাখালী খালে নিয়ে ফেলে দেন।
রহিমা খাতুন এর বাপের বাড়ির পাইন্যাশিয়া এলাকার সাবেক মেম্বার মনির জানান, হত্যার কয়েকদিন পর জসিম উদ্দিন নিজে হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার মনজুর
আলমকে ফোনে বলেন, “আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করে খালে ফেলে দিয়েছি।” তার ওই কথার রেকর্ড মঞ্জুর মেম্বার এর কাছে থাকতে পারে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন,
“খাল থেকে একটি নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তদন্ত চলছে, অভিযুক্তদের শনাক্তে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
বর্তমানে রহিমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠা


Leave a Reply