টুঙ্গিপাড়ায় অভিভাবক ও শিক্ষকের মধ্যে বাক-বিতন্ডার জেরে সড়ক অবরোধ
মো:রাকিবুজ্জামান
টুংগীপাড়া প্রতিনিধি(গোপালগঞ্জ)
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের দেয়ালে আপত্তিকর লেখাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও শিক্ষকের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। এর জের ধরে প্রায় আধাঘণ্টা টুঙ্গিপাড়া-গোপালগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া (জিটি) সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত পরশু সোমবার গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া (জিটি) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র তন্ময় মোল্লা বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের দেয়ালে আপত্তিকর ভাষা লেখার অভিযোগ ওঠে। তখন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকির হোসেন ছাত্রের বই সহ ব্যাগ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেন এবং তার কৃতকর্মের অপরাধে ওই ছাত্রকে বিদ্যালয় থেকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দেওয়ার জন্য সকল কার্যক্রম গ্রহন করার সুপারিশ করেন। এর কিছু সময় পরে ছাত্রের মা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক জাকির হোসেনকে অনুরোধ করেন টিসি না দেওয়ার জন্য। তখন শিক্ষক জাকির হোসেন ও তন্ময় মোল্লার মায়ের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। একই বিষয় নিয়ে ওই দিন রাতে পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডে তন্ময়ের বাবা আলী আকবর মোল্লার আবারও শিক্ষক জাকির হোসেন বাক-বিতন্ডা জরিয়ে পরেন। এর জেরে গতকাল সকাল ১১টার দিকে গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া (জিটি) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কে যান চলাচল সম্পুর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছু সময় পর টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বোঝালে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
শিক্ষার্থী তন্ময়ের বাবা আলী আকবর মোল্লা অভিযোগ করেন, “শিক্ষক জাকির হোসেন উস্কানি দিয়ে কিছু ছাত্রকে দিয়ে সড়ক অবরোধ করিয়েছেন এবং তার কাছে প্রাইভেট না পড়ায় প্রতিহিংসামূলকভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন”।
তবে শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর অভিভাবক যে অভিযোগ করেছেন সেটা ভিত্তিহীন। কারণ ওই ছাত্র দেয়ালে খারাপ ভাষা লেখার সময় একজন শিক্ষক ও অন্য শিক্ষার্থীরা দেখেছেন। তখন ক্লাসে গিয়ে ছাত্রকে না পাওয়ায় তার ব্যাগটি প্রধান শিক্ষকের কাছে দিয়েছিলাম। পরে তার অভিভাবক এসে আমাকে হুমকি–ধমকি দিয়েছেন এবং উস্কানির বিষয় আরো বলেন যে শিক্ষার্থীদের সড়কে যেতে আমি বাধা দিয়েছিলাম কিন্তু তারা শোনেনি।’
গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া (জিটি) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মনি মোহন বিশ্বাস বলেন, “মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী মাঠে জড়ো হচ্ছিলো। আমার সন্দেহ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতজোড় করে অনুরোধ করি কোনো কিছু না করার জন্য কিন্তু তারা আমার অনুরোধ না শুনে সড়কে চলে যায়। আমি সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি মুঠোফোনে ইউএনও স্যার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারকে অবহিত করি কিন্তু তার আগেই টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ঘটনা স্থলে এসে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সমস্যা সমাধান করেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যার বিদ্যালয়ে এসে উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধান করে দেন।”
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, “সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই এবং শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে পরিস্থিতি সাবাভিক করে যান চলাচলের ব্যাবস্থা করে দেই। এবিষয়ে কোন পক্ষ এখনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।”


Leave a Reply