যে কবরের মাঝে রয়েছে সোনা দানা হিরা জহরত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বগুড়ার নামাজগড় আঞ্জুমান-ই-গোরস্থানে রয়েছে একটা সুরক্ষিত কবর। এই কবরে শুয়ে আছে বগুড়ার একজন ভাগ্যবতী নারী রুপজান বিবি। কথিত আছে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের ব্রিটিশ স্টেশন মাস্টার কর্মসূত্রে বগুড়া থাকার সময় রুপজান বিবির রুপে মুগ্ধ হোন। তিনি প্রায়ই রুপজান বিবির বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করতেন। সেই ঘোরাঘুরি একসময় রুপান্তরিত হয় প্রণয়ে। মুসলিম মহিলা বিয়ে করেন খ্রিস্টান স্টেশন মাস্টারকে। রুপজান বিবির সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার মেনে নিতে পারেন নি এই প্রশয়। তারপরেও রুপজান বিবি আর টেনর সাহেবের সংসার ভালই চলছিল। সন্তান সম্ভবা হয়ে পরেন রুপজান বিবি। ডেলিভারি সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেওয়ায় রুপজান বিবিকে নেয়া হয় কলকাতার বড় হাসপাতালে। সেখানে রুপজান বিবির যন্ত্রনাদায়ক মৃত্যু হয়। রুপজান বিবির মরদেহ নিয়ে আসা হয় বগুড়ায়। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবার গ্রহণ করেননি রুপজান বিবির মরদেহ। রুপজান বিবির মৃত্যুতে গভীর দুঃখ পান ইংরেজ স্টেশন মাস্টার। যে রুপজান বিবির মরদেহ গ্রহণ করেন নি পরিবার তার কবরে ইংরেজ স্টেশন মাস্টার দিয়ে দেন জীবনের সব সঞ্চয়ের টাকা পয়সা, সোনা দানা হিরা। সব সহ রুপজান বিবির কবরকে নিরাপত্তার জন্য গভীর থেকে ইট সুরকি দিয়ে ঢালাই করে দেন। রুপজান বিবির মরদেহ অবহেলা করেছিল পরিবার, সেই কবরকে এমনভাবে দেয়া হয় যেন মানুষ যুগ যুগ ধরে যেন রুপজান বিবি কে মনে রাখে। কত কবরই হারিয়ে গেছে কিন্তু ১৯১৫ সালে মৃত্যুবরণ করা রুপজান বিবির কবর দেখতে এখনো দুর দুরান্ত খেকে লোকজন আসে বগুড়ায়। চর্চা করে রুপজান বিবি আর ইংরেজ স্টেশন মাস্টারের ভালোবাসার। তারপর শোকে মুজ্জমান ইংরেজ স্টেশন মাস্টার বগুড়া ছাড়েন। তাকে আর কেউ কোনদিন বগুড়ায় দেখেনি। যাবার আগে রুপজান বিবির কবরে ইংরেজিতে লিখে যান কয়েকটি পঙতি যার অনুবাদ হলো।
“এখানে শুয়ে আছে রুপজান বিবি। যিনি ১৯১৫ সালের ১০ মার্চ কলকাতার একটি হাসপাতালে ২৮ বছর বয়সে যন্তনাদায়ক রোগে মৃত্যুবরণ করেন”


Leave a Reply