ঈশ্বরদীতে ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল গৃহবধূর মরদেহ
বিশেষ প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদীতে ভাড়া বাসার শয়ন কক্ষের মেঝেতে মেঝেতে পড়ে ছিল গৃহবধূর মোছা: পিয়ারা খাতুন(২৬) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ। পরে পুলিশ গিয়ে সেই গৃহবধূর মরদহ উদ্ধার করেছে।
শুক্রবার(১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পাকশি ইপিজেড মোড় এলাকার এক ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত পিয়ারা খাতুন চাপাইনবয়াবগঞ্জ ভোলাহাট উপজেলার ছোট জামবাড়িয়া গ্রামের মোঃ হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী। তবে ঘটনার পর থেকেই স্বামী হাফিজুল ইসলাম পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইপিজেডে চাকরির উদ্দেশ্যে চাপাইনবয়াবগঞ্জ থেকে আসা হাফিজুল ও পিয়ারা খাতুন দম্পতি গত ১৪ সেপ্টেম্বর পাকশীর ইপিজেড মোড় এলাকায় স্থানীয় মোঃ রিপনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।
গতকাল রাত থেকে সকাল ১১ টার পর থেকেও তাদের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও মা বলেন খোঁজ নিতে যান। পরে জানালা দিয়ে তাকাতেই শয়ন কক্ষের মেঝেতে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ওই গৃহবধূকে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা এসে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পাকশি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন। তবে স্বামী পলাতক থাকার কারনে ঘটনাটি হত্যাকন্ড বলে দাবী করছেন এলাকবাসী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকতো। এরই ধারাবাহিকতায় স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পালিয়েছে।
বাড়ির মালিক মোঃ রিপন হোসেন জানান, তারা গত মাসের ১৪ তারিখে ইপিজেডে চাকরির উদ্দেশ্যে আমার বাসা ভাড়া নিয়েছে। চাকরি না পেয়ে তাদের আজ ঢাকা চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল রাত থেকে সকাল ১১ টা পর্যন্ত তাদের কোনই সাড়াশব্দ পাচ্ছিলাম না। পরে আমার স্ত্রীকে খোঁজ নিতে বল্লে সে ডাকাডাকি করে না পেয়ে জানালে দিয়ে তাকাতেই মেঝেতে ওই গৃহবধূকে পড়ে থাকতে দেখেন।
বাড়ির মালিকের মা রসিয়া খাতুন জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে ওদের ঘরের সামনে মেয়েটি স্যান্ডেল পরে আছে ছেলেটি স্যান্ডেল নাই আমার মনে সন্দেহ হয় তাদের ঢাকা যাওর কথা ছিলো না বলে চলে গিয়েছে নাকি তাই আমার ছেলের বউ কে বলি তাদের কে ডাকতে ছেলের বউ অনেক ডাকা ডাকি করলে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে দেখতে পাই মেয়েটি গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঘরে মেজেতে পরে আছে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি মোঃ আ স ম আব্দূন নূর বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে তারা এসে কোন অভিযোগ দাখিল করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Leave a Reply