January 15, 2026, 11:46 pm
শিরোনাম :
নারীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার কুমিল্লা দাউদকান্দি স্বামীর বাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইউএনও ফেরদৌস আরা জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলায় শীতার্ত মানুষের পাশে ব্র্যাক ইরানে ৩ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা সরিষাবাড়ীতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইয়াবা–হিরোইন ও রেপলিকা পিস্তলসহ চার মাদক ব্যবসায়ী আটক মানবদেহের ভেদ তত্ত্ব ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ায় দিগপাইতের দুইটি ইট ভাটাকে চার লক্ষ টাকা জরিমানা। রাজারহাটে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কর্তন,৪ লাখ টাকা জরিমানা ও যানবাহন জব্দ। কালিগঞ্জ সরকারি কলেজে দর্শন বিভাগের শ্রদ্ধেয় বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপিকা শামীমা আকতারের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান রাজশাহীতে ২৮ বোতল মদ উদ্ধার

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় বলী পাড়ায় আউশ ধানের বাম্পার ফলন।

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : Thursday, September 25, 2025
  • 171 সময় দেখুন

থানচি উপজেলার বলী পাড়ায় আউশ ধানের বাম্পার ফলন।

উশৈনু মারমা
(বিশেষ প্রতিনিধি)

সোনালি ধানের শীষে ভরে গেছে মাঠ, কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থানচি উপজেলার ৪নং বলী পাড়া ইউনিয়নে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠজুড়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনালি আউশ ধানের শীষ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিতরণ করা আউশের উন্নত জাত ব্রি-ধান-৪৮ এ বছর আশাতীত সাফল্য এনে দিয়েছে।

মাঠে গিয়ে যা দেখা গেল

রোদঝলমলে সকালে বলী পাড়ার কৃষিক্ষেতে ঢুকতেই দেখা গেল ব্যস্ত কৃষকদের। কেউ ধান কাটছেন, কেউ গাদা বাঁধছেন, আবার কেউ বা হাসিমুখে শীষ হাতে দাঁড়িয়ে গল্প করছেন। চারপাশের দৃশ্য যেন আনন্দের উচ্ছ্বাসে ভরা। স্থানীয় কৃষকরা জানালেন, এরকম ফলন তারা বহু বছর দেখেননি।

কৃষকদের অভিজ্ঞতা স্থানীয় কৃষক হ্লাশৈমং মারমা বলেন,
“দেশি জাতের ধান চাষ করে আমরা সব সময় ক্ষতির মুখ দেখতাম। খরচ হতো বেশি, ফলন হতো কম। এবার কৃষি অফিস থেকে ব্রি-ধান-৪৮ বীজ পেয়েছি। অল্প সময়ে ধান হয়েছে, শীষে দানা ভরপুর। পরিবারের খরচ মেটানোর চিন্তা কিছুটা হলেও কমেছে।”

ধান কাটার কাজে ব্যস্ত কৃষাণী হ্লাশৈনু মারমা বললেন,
“আমরা মহিলারাও পুরুষদের সঙ্গে কাজ করেছি। ধান ভালো হওয়ায় আমাদের কষ্ট সফল হয়েছে। আামার জমিতে গতবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ ধান পেয়েছি। জমিতে পানি না থাকলেও এই জাত ভালো ফলন দিয়েছে। আগামীতে আরো বেশি জমি আবাদ করব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী (ওয়েনমং)মারমা জানান, ব্রি-ধান-৪৮ একটি স্বল্পমেয়াদি ও উন্নত জাত। এর উৎপাদন খরচ কম, রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। এই জাত পাহাড়ি এলাকার জন্য বেশ উপযোগী। তিনি আরও বলেন,
“কৃষকরা ধীরে ধীরে নতুন জাত গ্রহণ করছে। আগামীতে আমরা আরও বেশি কৃষককে এই জাতের ধান আবাদে উৎসাহিত করব।”

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সরকারি সহযোগিতা নিয়মিত থাকলে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ আর খাদ্য সংকটে ভুগবে না। এমনকি পর্যাপ্ত উৎপাদন হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও ধান সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম বলী পাড়ায় তাই এখন নতুন স্বপ্ন বুনছে কৃষকরা। মাঠে সোনালি ধানের শীষ আর কৃষকের মুখে হাসি মিলেমিশে সৃষ্টি করেছে উৎসবমুখর আবহ।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD