ঐক্য, ন্যায় ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
গতকাল হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রথমবারের মতো উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন আমাদের আমির ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি আল্লামা মামুনুল হকের বয়ান শোনেন এবং পরে নিজেও গুরুত্বপূর্ণ দিক–নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন আমার ভাই মামুনুল হক সাহেব যাই বলেছেন ওটাই আমার বক্তব্য আমি তার বক্তব্যর সাথে একমত পোষণ করলাম ,তিনি বলেন “বাংলাদেশ একটি বরকতময় দেশ। পৃথিবীর বহু দেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশ আর কোথাও দেখিনি।” তিনি কোরআনের বিভিন্ন আয়াত তিলাওয়াত ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। কুরআনের প্রথম সূরা থেকে শেষ সুরা তাত্পর্য তুলে তিনি বোঝান—দ্বীন কায়েমে ঐক্য ও ইখলাসের বিকল্প নেই।
ইবাদতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রতিটি কাজেই ইবাদতের মানসিকতা থাকা দরকার। ইবাদত ছাড়া কাজ পরিপূর্ণতা পায় না।” একইসঙ্গে আকীদা নিয়ে অযথা বিবাদ সৃষ্টিকারীদের প্রতি তিনি পরামর্শ দেন বিভাজন পরিহার করে এক আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হতে।
মাগরিবের নামাজ তিন রাকাত “বাংলাদেশে যেমন তিন রাকাত, আমেরিকাতেও তিন রাকাত। তাহলে আমাদের মধ্যে বিভেদ কী প্রয়োজন?” তিনি দ্বীনি কাজকে প্রাধান্য দিয়ে ভ্রান্ত বিতর্ক পরিহারের আহ্বান জানান।
এরপর তিনি মজলুমের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ দিয়ে বলেন,
“আপনারা মজলুমের পাশে থাকবেন। দুর্নীতি দমন করবেন। শয়তান যেন আমাদের মাঝে কোনো বিবেকের বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে—বরং সে যেন আমাদের অবস্থা দেখে লজ্জিত হয়।”
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা জনগণের বিজয় চাই; আমরা চাই না বাংলাদেশ জালেমের হাতে নিষ্পেষিত হোক। আল্লাহ আমাদের জালেমের হাত থেকে রক্ষা করুন।”
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোয় তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
তিনি সবার কাছে এক বিশেষ ফরিয়াদও জানান—রক্তমাখা চাদরে শহীদি মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, “মৃত্যু সবার আসবে, কিন্তু সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু হলো শাহাদাতের মৃত্যু।”
ওখানে বক্তব্য শেষ করে তিনি জামাতের চট্টগ্রাম নির্বাচনী প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেন।


Leave a Reply