February 23, 2026, 10:23 pm
শিরোনাম :
আমতলীতে ৩০০ দরিদ্র পরিবার মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরন নড়াইলে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, বাবা-ছেলেসহ নিহত ৪ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন মাদককাণ্ডে মুখ খুললেন মেহজাবীন রাজশাহীতে আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক নরসিংদীর শিবপুরে শিক্ষকের দুই পা কর্তন অপরাধী আমার ভাই হলেও ছাড় পাবে না এমপি মনজুর এলাহী। জামালপুরে কেন্দুয়া কালিবাড়ী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মাদারগঞ্জে মাতৃভাষা দিবস পালন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি ‘ঘুঘুমারী হাজী কাদের সাংবাদিক মাহবুব টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ,এলাকাবাসীর ক্ষোভ ইসলামপুরে মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রটোকল লঙ্ঘন:প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র হোক ডাকাত সন্দেহে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা নিখোঁজ নাকি হত্যাকাণ্ড? জামালপুর সদরের পুর্বপাড় দিঘুলী গ্রামের এক সন্তানসহ গৃহবধূ নিখোঁজ।

রাজশাহীতে আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : Monday, February 23, 2026
  • 3 সময় দেখুন

রাজশাহীতে আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক

মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোরে চলতি মৌসুমে আবারও লোকসানের মুখে পড়েছেন আলু চাষিরা। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯ টাকা থেকে সাড়ে ৯ টাকায়। এরসঙ্গে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৫ কেজি করে ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে চরম লোকসান গুনছেন তারা।

আলু চাষি ফিরোজ কবির জানান, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তুলনামূলক ভালো ফলন পেয়েছেন। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ বস্তা (প্রতি বস্তা ৬০ কেজি) আলু উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বস্তা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘায় ২৪ হাজার থেকে ৩১ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। ফলে বিঘাপ্রতি লোকসান হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

কুরবান নামের এক চাষি বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষ করে বিঘাপ্রতি প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু বিক্রি করে পাওয়া গেছে মাত্র ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা। তার ভাষায়- ‘বিঘায় ৩২ হাজার টাকা লোকসান হলে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।’

কৃষকদের অভিযোগ, ৭০ কেজির বস্তা লোড হলেও ৬৫ কেজির দাম দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় ৫ কেজি করে অতিরিক্ত আলু দিতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের লাভ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এতে বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫০ কেজি আলু অতিরিক্ত চলে যাচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৩৭৫ টাকা।

ব্যবসায়ী আইনুল জানান, এসব আলু খুলনায় নিয়ে বিক্রি করা হবে। সেখানে কেজিপ্রতি ১ থেকে ২ টাকা বেশি দাম পাওয়া যেতে পারে। ঢলনের বিষয়ে তিনি বলেন, জমি থেকে কাঁচা আলু কেনা হয়। পরিবহন ও সংরক্ষণের সময় ওজন কমে যায় বলেই অতিরিক্ত নিতে হয়।

ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, গতবারের মতো এবারও আলু চাষে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই ঋণ করে জমির পরিমাণ কমিয়ে আবার আলু চাষ করেছেন, কিন্তু এবারও লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে চাষিরা বলছেন, এখনও পুরোদমে আলু তোলা শুরু হয়নি। প্রায় ৮-১০ দিন আগে রহিমাডাঙ্গা বিলের জমির আলু উঠতে শুরু করে, তখনও বাজারদর ছিল সাড়ে ৯ টাকা কেজি, যা এখনো বহাল আছে। যদিও জমি লিজ ও বীজের দাম কিছুটা কম থাকায় খরচ কিছুটা কমেছে, তবে সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।

তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এবারে উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ হেক্টর জমির আলু ইতোমধ্যে তোলা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড়ে ২৫ মেট্রিক টন ফলন হচ্ছে। দামের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ চাষাবাদ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কাজ করে; বাজারদর নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিপণন বিভাগের দায়িত্ব।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD