মোংলায় রাব্বি ক্লিনিকের চিকিৎসদের গাফলিতর কারণে সিজারিন নারীর মৃত্যু।
মো.রাজ হাওলাদার মোংলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোংলা মাদ্রাসা রোডস্থ রাব্বি ক্লিনিক-এর বিরুদ্ধে ফের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে সিজারিয়ান অপারেশনের টেবিলেই মৃত্যু হয়েছে মোংলা সুন্দরবন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন শেখের স্ত্রী বৃষ্টি বেগম (২৬)-এর। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ক্লিনিকটির মালিক, ডাক্তার ও উপস্থিত স্টাফরা নবজাতক ও রোগীকে ফেলে রেখেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ক্লিনিকের অননুমোদিত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও অদক্ষ জনবল-এর কারণেই এই অপমৃত্যু ঘটেছে।
জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বৃষ্টি বেগমকে সিজারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশনে উপস্থিত ছিলেন ক্লিনিকের মালিক মো. এনামুল, কথিত ডাক্তার মামুন ও এনামুলের ছেলে। নবজাতককে বের করার পরই রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ক্লিনিকের মালিক এনামুলসহ উপস্থিত ডাক্তার ও নার্সরা রোগী ও সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখেই ক্লিনিক ছেড়ে পালিয়ে যান।
পরে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার শাহীনের নেতৃত্বে একটি জরুরি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা বৃষ্টি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং ক্লিনিকে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিমের হস্তক্ষেপে দ্রুত ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে মোংলা সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. রেফাতুল ইসলাম এবং মোংলা থানা ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন-সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডাক্তার শাহীন জানান, “অনুমোদন এবং পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ছাড়া কোনো ক্লিনিকের অস্ত্রোপচার করানোর সুযোগ নেই। এটি নিয়মের চরম লঙ্ঘন এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুতর অবহেলা। আমরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিক ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়, তবে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, রাব্বি ক্লিনিকের মালিক এনামুলের অবহেলায় এর আগেও একাধিক প্রসূতি প্রাণ হারিয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই তিনি আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যান। নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা এনামুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্লিনিকটির ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত রাতুল ক্লিনিকসহ অন্যান্য অনুমোদনহীন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি না থাকলে এমন দুর্ঘটনা মোংলায় থামবে না।


Leave a Reply