বুয়েট শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায় ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার
রফিকুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়কে সহপাঠী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি বোরকা, হিজাব ও নারীদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুয়েটের এই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তার এক সহপাঠী নারী শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শ্রীশান্ত রায় দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে নানাভাবে হয়রানি করছিলেন এবং সর্বশেষ তাকে ধর্ষণ করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের পোশাক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে তিনি অশালীন মন্তব্য করেন, যা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে আছেন এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
বুয়েট প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, “কোনো শিক্ষার্থীর অনৈতিক আচরণ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় প্রতিষ্ঠান কখনো নেবে না।”
এদিকে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই শ্রীশান্ত রায়ের কঠোর শাস্তি দাবি করছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, “এই ধরনের অপরাধ শুধু আইনি নয়, সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষার স্থানে এ ধরনের ঘটনা গভীর উদ্বেগের বিষয়।”
বুয়েট শিক্ষার্থী সমাজে এখন একটাই প্রশ্ন—একজন প্রকৌশলী হওয়ার পথে থাকা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কিভাবে সম্ভব? ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে সহপাঠীরা ইতোমধ্যে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সহপাঠী ধর্ষণ এবং নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া শ্রীশান্ত রায়কে ঘিরে এখন দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে চরম আলোড়ন। সমাজের প্রত্যাশা—এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মধ্য দিয়ে যেন ভবিষ্যতে এমন ঘৃণ্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে।


Leave a Reply