২০১৩ সালের মে মাসে নাইজেরিয়ান বাবুর্চি হ্যারিসন ওকেন এক অকল্পনীয় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। আটলান্টিক মহাসাগরে ‘জ্যাসকন-৪’ নামক একটি টাগবোট উল্টে গিয়ে ৩০ মিটার (প্রায় ১০০ ফুট) পানির নিচে ডুবে যায়। জাহাজের ১২ জন ক্রুর মধ্যে ১১ জনই মারা গেলেও হ্যারিসন অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
ঘটনার সময় তিনি একটি শৌচাগারে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে একটি ‘এয়ার পকেটে’ আশ্রয় পান। এই সামান্য বাতাসে তিনি প্রায় তিন দিন অর্থাৎ ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় সম্পূর্ণ অন্ধকারে বরফ-শীতল পানির মধ্যে কাটিয়ে দেন।
দক্ষিণ আফ্রিকান উদ্ধারকারী একটি দল যখন মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য জাহাজটিতে প্রবেশ করে, তখন তারা হ্যারিসনকে জীবিত খুঁজে পেয়ে হতবাক হয়ে যায়। তিনি ছিলেন সেই জাহাজের একমাত্র জীবিত সদস্য। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হ্যারিসনকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করলেও, তিনি ভয়কে জয় করার সিদ্ধান্ত নেন। অবিশ্বাস্যভাবে, তিনি পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেই একজন পেশাদার বাণিজ্যিক ডুবুরি হয়ে ওঠেন। তার এই বেঁচে ফেরার গল্পটি আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা সারভাইভাল উপাখ্যান হিসেবে বিবেচিত হয়।


Leave a Reply