প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে সাবেক চেয়ারম্যান খালেদুজ্জামান জুবেরী
মোঃ আনোয়ার হোসাইন
বিশেষ প্রতিনিধি(জামালপুর)
মেলান্দহ উপজেলার ১নং দুরমুট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খালেদুজ্জামান জুবেরীর বিরুদ্ধে নানা অপকর্ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার অনিয়মের ফিরিস্তি উঠে আসলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি পলাতক থাকলেও, সম্প্রতি তার এলাকায় অবস্থানের খবর এবং তাকে ঘিরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জনমনে প্রশ্ন তার খুটির জোর কোথায়?
গত ৫ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর থেকে জুবেরী গা ঢাকা দিলেও তার আধিপত্য কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত অভিযোগ এবং মামলা থাকার পরেও কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না? অভিযোগ রয়েছে, বিরোধীদলীয় কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাকে ‘শেল্টার’ বা আশ্রয় দিচ্ছেন। এই রাজনৈতিক ছত্রছায়াই তাকে প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ১৪ তারিখ (মঙ্গলবার) জুবেরী তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দুরমুট ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অপরাধীর অবস্থানের খবরে ইউনিয়নবাসী সংগঠিত হয়ে একটি প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং জুবেরীর গ্রেফতারের দাবিতে স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি,
সাবেক চেয়ারম্যান জুবেরীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
তার সকল অপকর্মের বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
যারা তাকে টাকার বিনিময়ে আশ্রয় দিচ্ছে, তাদেরও মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, জুবেরীর মতো অপরাধী মুক্ত থাকলে এলাকায় অশান্তি আরও বাড়বে। তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে দ্রুত এই বিতর্কিত সাবেক চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও বিক্ষুব্ধ জনতা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


Leave a Reply