মাদারগঞ্জে মাতৃভাষা দিবস পালন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি ‘ঘুঘুমারী হাজী কাদের সাংবাদিক মাহবুব টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ’, এলাকাবাসীর ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের মাদারগঞ্জে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ‘ঘুঘুমারী হাজী কাদের সাংবাদিক মাহবুব টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ’ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সরকারি সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির এমন চরম অবহেলা ও উদাসীনতায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, একুশে ফেব্রুয়ারি সূর্যোদয়ের সাথে সাথে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা সঠিক নিয়মে অর্ধনমিত রাখা এবং যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনের সরকারি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার ঘুঘুমারী এলাকায় অবস্থিত ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। এমনকি ভাষা শহীদদের স্মরণে কোনো আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল বা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মতো ন্যূনতম কোনো কর্মসূচিও গ্রহণ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। চারপাশ ছিল একেবারেই জনশূন্য ও তালাবদ্ধ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই দিনে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন নীরবতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা শেখার মূল জায়গা। কিন্তু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের এমন খামখেয়ালিপনা ও রাষ্ট্রীয় অবমাননা আমাদের হতাশ করেছে। তারা যদি নিজেরাই জাতীয় দিবস পালন না করে, তবে শিক্ষার্থীদের কী শিক্ষা দেবে? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘ঘুঘুমারী হাজী কাদের সাংবাদিক মাহবুব টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ’-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করা এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জাতীয় দিবস পালন না করা বড় ধরনের অপরাধ বলে শিকার করেন ও ভবিষ্যৎ এমন ভুল আর হবে না বলেও জানান।
বিষয়টি নিয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন জানান, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো আমার দপ্তরের আওতায় নয়, বিষয়টি নিয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আলোচনা করবে বলে জানান তিনি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমন চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় কোন প্রকার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


Leave a Reply