বন আইন ও বিধিমালা ভঙ্গ: লামায় অবৈধ সেগুন কাঠ পাচারের অভিযোগে কাঠ ও পিকআপ জব্দ,।
মোহাম্মদ করিম লামা- আলীকদম প্রতিনিধি:
বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত) এর বিধিমালা সরাসরি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে মূল্যবান সেগুন কাঠ কর্তন ও পরিবহনের সুস্পষ্ট অভিযোগে বান্দরবান জেলার লামা থানাধীন ০৫ নং সরই ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডস্থ বুরাবুইন্যা পাড়া এলাকায় ডলুছড়ি বনবিভাগ ও কেয়াজুপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে একটি পিকআপ গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ করা হয়েছে।
জানা যায়, ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাত ০২টা ঘটকার সময় প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ টহল দল সরই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পূর্ব পাশে অবস্থিত লিচু বাগান এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, পরিবহন ছাড়পত্র বা মালিকানার দলিল ব্যতীত অবৈধভাবে বনজ সম্পদ পরিবহনকালে একটি মালিকবিহীন পিকআপ গাড়ি আটক করা হয়।
আটককৃত গাড়িটি তল্লাশি করে ২২ ফুট অবৈধভাবে কর্তিত সেগুন কাঠ উদ্ধার করা হয়, যা সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা রাষ্ট্রীয় বনভূমি থেকে সংঘবদ্ধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। জব্দকৃত কাঠ ও পিকআপ গাড়িটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
অভিযান চলাকালে অভিযুক্ত গাড়ির কোনো চালক, মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি, যা অপরাধ সংঘটনের পর আসামিদের পলায়নের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। উদ্ধারকৃত কাঠের বৈধ উৎস প্রমাণে কোনো দলিলাদি উপস্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় বন আইন অনুযায়ী কাঠসহ পিকআপ গাড়িটি জব্দপূর্বক ডলুছড়ি রেন্জের সরই বিট কর্মকর্তার কার্ষালয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ডলুছড়ি রেন্জের সরই বিট কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম জানায়, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি সংঘবদ্ধ বন অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বনবিভাগ আরও জানায়, রাষ্ট্রীয় বনসম্পদ ধ্বংস ও অবৈধ কাঠ পাচার রোধে এ ধরনের কঠোর ও নজিরবিহীন অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং বন আইনের আওতায় অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।


Leave a Reply