April 17, 2026, 10:18 am
শিরোনাম :
সুন্দরবনে ড্রোনের সহায়তায় অভিযান: বিষ দিয়ে মাছ শিকার পণ্ড, নৌকা ও বিষ জব্দ কানাডার মুলধারার রাজনীতিতে বাঙালী বংশোদ্ভূত মৌলভীবাজারের ডলি বেগম অধ্যক্ষের অবহেলায় ৩৯ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত গাঁজা সেবন ও বহনের অপরাধে নীলফামারী কোর্টের মুহুরী আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাসের কারাদণ্ড কুমিল্লায় অটোরিকশা-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে মা-ছেলের মৃত্যু কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাল বোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে নিহত-৭ আহত-৬ রশিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দুর্ভোগের চরম সীমায় তিন ইউনিয়নের মানুষ। সুন্দরবন ও উপকুলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডের সাঁড়াশি অভিযান ইসলামপুর পৌরসভায় উন্নয়ন ব্যয় নিয়ে বিভ্রান্তি: সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের বিপরীতে দাপ্তরিক হিসাবের চিত্র

খাগড়াছড়িতে বনবিভাগের কাছে বন্যপ্রাণী তুলে দিলেন প্রাণিপ্রেমী নবদ্বীপ চাকমা

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : Tuesday, January 6, 2026
  • 270 সময় দেখুন

খাগড়াছড়িতে বনবিভাগের কাছে বন্যপ্রাণী তুলে দিলেন প্রাণিপ্রেমী নবদ্বীপ চাকমা

মোঃমাসুদ রানা,
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ

খাগড়াছড়িতে শিশু থেকে নিজের ঘরে পরম মমতায় দুটি বানর, ছয়টি হরিণ এ একটি ভালুক স্বেচ্ছায় বনবিভাগের হাতে তুলে দিয়েছেন প্রাণিপ্রেমী নবদ্বীপ চাকমা।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারী) বিকেলে খাগড়াছড়ি শহরের তেঁতুলতলাস্থ তাঁর নিজ বাড়িতে খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ মিঞার কাছে তিনি সানন্দে প্রাণিগুলো তুলে দেন। এসময় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক অনিমেষ চাকমা’র উদ্যোগেই মূলত প্রাণিগুলো সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
তিনি জানান, নবদ্বীপ চাকমা রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বেড়ে উঠেছেন। একসময় ইউপি সদস্যও ছিলেন। বাঘাইছড়িতে তিনি ছোটকাল থেকেই বন্যপ্রাণি দেখে আসছেন। দরিদ্র মানুষদেরকে হাটে-বাজারে শিকার করা হরিণের মাংস বিক্রিসহ নানা ধরণের প্রকৃতি ও প্রাণবিনাশী কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে আসছেন।

নবদ্বীপ চাকমা জানান, এখন তিনি পেশায় একজন প্রথম শেণীর ঠিকাদার। খাগড়াছড়ি শহরেই থাকেন। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর নিয়ে জীবিত ও আহত বন্যপ্রাণি সংগ্রহ করে তাদের লালন-পালন করে তিনি আনন্দ ও স্বস্তি লাভ করেন। ভগবান বুদ্ধের অমিয় বাণী ‘জীবহত্যা মহাপাপ’ এই নীতিবাক্য মেনে তিনি বন্যপ্রাণির জীবন রক্ষার চেষ্টা করেন।

নবদ্বীপ চাকমা জানান, আজকে হস্তান্তর করা হরিণগুলা তিনি একদম শিশুকাল থেকেই লালন পালন করেছেন। ভালুকটি আহত অবস্থায় পেয়েছেন। বানরগুলাও সুস্থ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে এগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছিলাম কিন্তু পথ ও মাধ্যম খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অবশেষে অনিমেষ চাকমা রিঙ্কু বাবু’র মাধ্যমে প্রাণীগুলোর জীবনের একটি নিরাপদ ঠিকানা পেলাম বলে ভালো লাগছে।

খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ মিঞা জানান, পাহাড়ে বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় নবদ্ধীপ চাকমা এবং অনিমেষ চাকমা রিঙ্কু’র মতো প্রাণ-প্রকৃতির অনুঘটকদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরাও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের সংগৃহীত বন্যপ্রাণী রক্ষাকারীদের উদ্বুদ্ধ করার প্রস্তাবনা পাঠাবো।

তিনি জানান, সাফারি পার্কের প্রতিনিধিকে অনুরোধ করে ডেকে আনা হয়েছে। প্রাণিগুলো যতো শিগগির তাঁদের কাছে পৌছে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, প্রাণিগুলো হস্তান্তরের সময় নবদ্ধীপ চাকমা’র পরিবারের সবার চোখে জল নামলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাঁদের মনভরা ভালোবাসা জানান।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD