পাহাড় জাগে, মেঘ হাসে, বাতাসে খুশির বান,
রাজার মাঠে আজ মিলেছে তিন মন্ত্রীর প্রাণ।
বান্দরবানে এই প্রথম ইতিহাসের ক্ষণ,
এক মাঠে তিন মন্ত্রী দেখলো সর্বজন।।
কি হলো আজ রাজার মাঠে?
ওয়াগোয়াই পোয়ে মারমার প্রাণের উৎসব,
প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মের গৌরব।
সন্ধ্যা আটটায় জ্বলে উঠলো মঙ্গলপ্রদীপের আলো,
চুলামণি জাদির পানে ফানুস উড়লো ভালো।।
এক ফানুসে এক প্রার্থনা, এক আলোয় এক দেশ,
শান্তি থাকুক পাহাড়ে হিংসা হোক শেষ।
তারপর রাতে পিঠা উৎসব, হরেক রকম পিঠা,
মায়ের হাতের, বোনের হাতের স্বাদে অমৃত মিঠা।।
:-কে কে এলেন?
প্রধান অতিথি নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতির মন্ত্রী,
তার কণ্ঠে “পাহাড়ের সংস্কৃতি, দেশের মন্ত্রী।”
পার্বত্য মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী,
পাহাড়ের ছেলে ফিরলো ঘরে বাজলো খুশির ভেরী।।
প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম,
বললেন “সম্প্রীতিই শক্তি, এটাই মোদের নিয়ম।”
ব্রিগেডিয়ার আরিফুল ইসলাম, বান্দরবান রিজিয়ন,
তার উপস্থিতি নিরাপত্তা আর উন্নয়ন।।
চেয়ারম্যান মাম্যাচিং, ডিসি নাজনীন সুলতানা,
এসপি ওহাবুল খন্দকার সবাই এক ঠিকানায়।
এক মঞ্চে প্রশাসন, সেনা, জনপ্রতিনিধি,
রাজার মাঠ আজ প্রমাণ সম্প্রীতির বিধি।।
কেন এই উৎসব?
আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে তিন মাস বর্ষাব্রত,
ভিক্ষুরা থাকেন বিহারে, করেন ধর্মব্রত।
প্রবারণা পূর্ণিমায় তার হয় অবসান,
এই দিনেই সিদ্ধার্থের জীবনে তিন মহাপ্রাণ —
মাতৃগর্ভে আগমন, গৃহত্যাগের ক্ষণ,
আর ধর্মচক্র প্রবর্তন আলোর জাগরণ।।
তাই তো মারমা পাড়ায় পাড়ায় নতুন জামার ধুম,
ফানুস বানায় শিশুরা সব, চোখে খুশির ঘুম।
মহারথ সাজে ড্রাগন রূপে, রঙে রঙিন পাহাড়,
বান্দরবান আজ সেজেছে যেন রূপকথার বাহার।।
ইতিহাসের সাক্ষী রাজার মাঠ:
যে মাঠ ছিল দখলদারের, কিশোর গ্যাংয়ের ভয়,
আজ সে মাঠেই তিন মন্ত্রী এ কি কম গৌরবময়?
পৌরসভা করেছে দখলমুক্ত, ফিরেছে তার প্রাণ,
আজ সেখানে ফানুস ওড়ে, গায় সম্প্রীতির গান।।
নবাগত পরিচালক চথুই প্রু আবেগে বলেন ভাই,
“ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইনস্টিটিউট আজ ধন্য হলো তাই।
এই প্রথম রাজার মাঠে তিন মন্ত্রী এক সাথে,
এ ইতিহাস লেখা রবে বান্দরবানের পাতাতে।”
তিন দিনব্যাপী চলবে উৎসব গান, নাচ, মেলা,
পাহাড় কন্যা হাসছে আজি, খুশির ভেলা।
তুমি যদি না দেখো বস, মিস করবে অনেক,
বান্দরবানে এসো আজি দেখো আলোর ঝলক।