বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের স্মৃতি ও দর্শনকে ধারণ করে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে বাউল, সাধক, লালনভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মরমি সাধক ফকির লালন শাহের মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সাম্য ও সম্প্রীতির বাণী ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছরই তাঁর স্মরণে নানা আয়োজন করা হয়। দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত ও অনুসারীর কাছে ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়া এক বিশেষ আকর্ষণের স্থান।
তিন দিনব্যাপী এ স্মরণোৎসবে লালনসংগীত, বাউলগান ও সাধুসঙ্গসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে লালনের জীবনদর্শন তুলে ধরা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাউল শিল্পী, সাধক ও লালনভক্তদের সমাগম ঘটবে।
লালন শাহ তাঁর গানে জাত-পাত, ধর্মীয় বিভেদ ও সামাজিক বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর সেই মানবিক দর্শন আজও মানুষকে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবতার পথে অনুপ্রাণিত করে।
লালন স্মরণোৎসব শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং বাংলার লোকসংস্কৃতি ও মরমি সাধনার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।