শরতের আকাশ ধুয়ে, কাশফুলের সাদা আঁচল পরে, মেঘের কাজল চোখে পরে সে দাঁড়িয়ে আছে।

তার বুকের ভেতর আঁকাবাঁকা পথ, যেন হাতের রেখা – সেই রেখা ধরে হাঁটলেই পৌঁছে যাওয়া যায় মেঘের দেশে। নীলাচল থেকে নাফাখুম, মেঘলা থেকে দেবতাখুম – প্রতিটি ঝরনা আজ কলতানে গাইছে, “এসো, তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।”

বান্দরবান পর্যটন নগরী, রূপের রাণী, পাহাড় কন্যা দার্জিলিংয়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
শুনেছি, তার ঘরের ৮০ ভাগ দরজাই নাকি খুলে গেছে নতুন অতিথির জন্য। বাকি ২০ ভাগও খুলবে, শুধু তোমার পায়ের শব্দ শুনলে।

চাঁদের গাড়িগুলোও প্রস্তুত, চারশো চাঁদ নেমে এসেছে পাহাড়ে, তোমাকে জোছনায় ভেজাবে বলে। আর নিরাপত্তার চাদর বিছিয়ে রেখেছে প্রশাসন, যাতে তোমার পথে একটুও কাঁটা না লাগে।

এসো, এই পূজা-প্রবারণার ছুটিতে। পাহাড় তোমাকে ডাকছে, মেঘ তোমাকে ডাকছে।
পর্যটক বরণের অপেক্ষায় বান্দরবান, ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং-

দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমার টানা ছুটিকে ঘিরে পর্যটক বরণে প্রস্তুত পার্বত্য জেলা বান্দরবান। ইতিমধ্যে জেলার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা পথ, মেঘের লুকোচুরি আর ঝরনার কলতান উপভোগ করতে প্রতিবছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা ছুটে আসেন। নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাতের পাশাপাশি দেবতাখুম, নাফাখুম ও আমিয়াখুমে এবারও ভিড় বাড়বে বলে আশা।

পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে চার শতাধিক জিপ (চাঁদের গাড়ি)। লাইনম্যান কামাল বলেন, চালকদের নিয়ে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বান্দরবান হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে ৭০-৮০ ভাগ বুকিং হয়ে গেছে, কক্ষ সংকট দেখা দিতে পারে।

এদিকে পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, প্রতিটি স্পটে পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

অসীম রায় (অশ্বিনী), বান্দরবান: শারদীয়