সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে গত ৯ মাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বান্দরবানের বলিপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি)।

আজ ১১ অক্টোবর ২০২৬ বলিপাড়া জোনের অধিনায়ক কর্তৃক আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানিক কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয় -, বলিপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি) এর জোন কমান্ডার –
লে: কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিক।

আভিযানিক কর্মকাণ্ড-২০২৬ এর উল্লেখযোগ্য অংশ:
গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল জোরদারের ফলে গত বছর বৈসাবি ও সাংগ্রাই অনুষ্ঠানের তুলনায় এবছর গত ১৩-১৫ এপ্রিল ২০২৬ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার রেমাক্রিতে বৈসাবি ও সাংগ্রাই অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

গত ২০ মে ২০২৬ আরাকান আর্মিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে গমনের পরিকল্পনাকারী ০২ জন পাহাড়ি যুবকসহ অপহরণকারী মাংলে ম্রো’কে বিশেষ অপারেশনের মাধ্যমে আটক করা হয়।

গত ২২ মে ২০২৬ অত্র জোনের দায়িত্বপূর্ণ বিদ্যামনি পাড়া এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অপহৃত মোঃ আমু হোসেনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অপহরণকারী মাংলে ম্রোকে মুক্তিপণের ৩ লক্ষ টাকা ও অপহরণে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়।

গত ২৪ মে ২০২৬ থানচিতে ০৫ বছর বয়সী ত্রিপুরা শিশুকে ধর্ষণের ফলে উত্তেজিত জনতা কর্তৃক থানচি থানা ঘেরাও হলে উক্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ।

গত ০৮ জুন ২০২৬ অধীনস্থ গ্যালেঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ জৈতুপাড়া এলাকায় এক অজ্ঞাত বাঙালিকে হত্যা করে মরদেহ গুমের ঘটনায় বিজিবি অভিযান পরিচালনা করে সন্দেহভাজন ১৩ জন ব্যক্তিকে আটক করে।

গত ১০ জুন ২০২৬ অত্র জোনের অধীনস্থ স্পটহাইট টিওবি’র দায়িত্বপূর্ণ আরিফ পাড়া এলাকা হতে ০২ জন আসামীসহ ০১টি গ্রেনেড ও ০৬ রাউন্ড এ্যামুনেশন আটক করা হয়।

গত ১৫ জুন ২০২৬ অধীনস্থ ইয়াংরাই বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ পেনেডং পাড়া এলাকায় একটি জুমঘর থেকে ০৫টি গ্রেনেড ও ০২টি এন্টি-পার্সোনাল আইইডি/মাইন উদ্ধার করা হয়।

এ সময় বিজিবি জানায়, একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব পালনে বলিপাড়া জোন সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক রয়েছে।

‎নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায়ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলিপাড়া জোন।
‎প্রেস ব্রিফিংয়ের তথ্যমতে, ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ২৮৫ জন অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীর ভর্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ, শিক্ষাবৃত্তি এবং শিক্ষাব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
‎এ ছাড়া দুর্গম এলাকার ৩৫০ জন দরিদ্র, অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়।
‎চিকিৎসাসেবার অংশ হিসেবে ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ৬৫৬ জন অসহায় ও দুস্থ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জটিল রোগে আক্রান্ত ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন—এমন ব্যক্তিদেরও সহায়তা করা হয়েছে।
‎খেলাধুলা ও সামাজিক সম্প্রীতি উন্নয়ন
‎স্থানীয় তরুণ ও খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে পাঁচটি কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯৩ জন যুবক ও খেলোয়াড়ের মধ্যে ফুটবল, ভলিবল, জার্সি, নেটসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সম্প্রীতি উন্নয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী নারী খেলোয়াড়দেরও পুরস্কৃত করা হয়েছে।
‎
‎এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈসাবি, বৈসু ও সাংগ্রাই উৎসব আয়োজনেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।
‎বন্যাদুর্গত ও অসহায় পরিবারের পাশে বিজিবি
‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায়ও বলিপাড়া জোনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। প্রেস ব্রিফিং অনুযায়ী, তিনটি কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮৮টি পরিবারের ৭৩০ জন সদস্যের মধ্যে চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
‎
‎এ ছাড়া অসহায় ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজন, সামাজিক অনুষ্ঠান, বিবাহ এবং ঘর নির্মাণের মতো মানবিক কাজেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
‎
‎জননিরাপত্তা ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয়
‎প্রেস ব্রিফিংয়ে বলিপাড়া জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে।
‎
‎স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।