কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রকাশ্য সড়কে অটোরিকশা চালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়াকে (২০) পিটিয়ে হত্যার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি তদন্তের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি প্রকাশ্যে না আসায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই বিকেলে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের কাছে একটি ডিমবাহী গাড়ি থামিয়ে জুয়েলকে জোরপূর্বক নামিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই ঘাতকদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। রাতে জুয়েল হত্যার বিচার দাবীতে নিহতের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এলাকাবাসী। গত ১৩ জুলাই আগরপুর-পুড়াদিয়া রাস্তার লক্ষ্মীপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই নিহতের বাবা কুদ্দুস মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর গত ২০ ও ২১ জুলাই বড়চারা নতুন বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে বড়চারা গ্রামবাসী। আন্দোলনকারীদের দাবি- প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল অপরাধীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। অপরদিকে, একই কর্মসূচিতে মামলায় নাম থাকা কয়েকজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং নিরপরাধদের হয়রানি না করার আহ্বান জানান।
ঘটনার তিন মাস পূর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার বা মামলার চার্জশিট দাখিলের খবর পাওয়া যায়নি। মামলাটি পিবিআইয়ের অধীনে তদন্তাধীন থাকলেও কোনো আপডেট না পাওয়ায় স্বজনদের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গোপনীয় তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকতে পারে, তবে নিহতের পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা কোন অপশক্তির ভয়ে- তদন্ত যেন ঝুলে না থাকে।
নিহতের পরিবার ও সচেতন এলাকাবাসী চান, পিবিআই যেন দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনে এবং একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন।