মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, জমি দখল, বসতবাড়ির ফলন্ত গাছ জোরপূর্বক বিক্রি, জালিয়াতি ও হুমকির অভিযোগে দেবরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সালমা আক্তার (৪০) নামে এক নারী।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। সালমা আক্তার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি গ্রামের মুন্সি আতাউর রহমান খোকনের স্ত্রী এবং কাওসার লস্কারের মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালমা আক্তার অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে তার স্বামী আতাউর রহমানকে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বর্তমানে তার স্বামী কারাগারে থাকায় সেই সুযোগে একই এলাকার মৃত হাফিজুর রহমান মুন্সির ছেলে ও সম্পর্কে চাচাতো দেবর মানিক মুন্সি (৪২) তাদের বাড়িতে থাকা কয়েকটি বড় ফলন্ত আমগাছ জোরপূর্বক বিক্রি করে দেন।

তিনি বলেন, গাছ কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে মানিক মুন্সি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেন। পরে তিনি টুঙ্গিপাড়া থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। তবে পরবর্তীতে আইন অমান্য করে আবারও ওই গাছ কাটার অভিযোগ করেন তিনি।

সালমা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, মানিক মুন্সি মাদকাসক্ত এবং গোপালগঞ্জের আলোচিত বিএনপি নেতা দিদার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। ওই মামলায় কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে তার স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাদের পরিবারের ওপর বিভিন্নভাবে হয়রানি ও জুলুম করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সালমা আক্তার বলেন, মানিক মুন্সি যেকোনো সময় তার ওপর হামলা করতে পারেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি একাধিকবার থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে। এমনকি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও এখন পর্যন্ত তিনি কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে সালমা আক্তার প্রধানমন্ত্রীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তার পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।