লাখাই উপজেলার ১নং ইউনিয়নের চিকনপুর গ্রামের টমটম চালক পার্শবর্তী নাসিরনগর উপজেলার কলেজ মোড়ে কাশবনের ভেতর হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া টমটম চালক

আরজান মিয়া ওরফে আবদুল্লা (১৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যার পর লুট হওয়া একটি ভিভো মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং মোবাইল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে
সংস্থাটি।

পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেপ্তার সিহাব ও জুয়েল মোবাইলটি লুণ্ঠিত এ বিষয়টি জানার পরও মাত্র ২ হাজার ২০০ টাকায় সেটি কিনে নেয়। পরে অবৈধ লাভের আশায় মোবাইলটি সামসু মিয়ার কাছে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
তদন্তকারীদের কাছে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে মোবাইলটির অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

পিবিআইয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও তদন্তে জানা গেছে, ২০ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের লাখাইয়ের বামৈ-বল্লা বাজার এলাকা থেকে মোঃ তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিন (৩৫) এবং রিমন ওরফে মোঃ মাহফুজুর রহমান (২৫) পূর্বপরিকল্পিতভাবে আরজানকে নিয়ে নাসিরনগরের দিকে আসে।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নাসিরনগর এলাকায় আরজানকে হত্যার পর তার অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন লুট করা হয়। পরে মরদেহ কাশবনের ভেতর ফেলে রেখে যায় তারা।

গ্রেপ্তার জুয়েল মূল ঘাতক তুহিন ও রিমনের পূর্বপরিচিত বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার সচিম চাকমা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআই দ্রুত ছায়াতদন্ত শুরু করে। নিবিড় তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, পলাতক আসামিদের গতিবিধি পর্যালোচনা এবং সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটিই মামলার মূল জট খুলে দেয়। লুণ্ঠিত আলামত ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া মূল ঘাতকদেরও শনাক্ত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সিহাব হোসেন ও রাহাব আলী ওরফে জুয়েলকে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, তারা আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত বলে শনাক্ত তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিন এবং রিমন ওরফে মাহফুজুর রহমান এখনো পলাতক রয়েছেন।

তাদের গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত অটোরিক্সা উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।