খবরটা শুনে প্রথমে স্বস্তি লাগলো। অবশেষে পুলিশ মাঠে নেমেছে। কিন্তু পরক্ষণেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। এরা তো আমাদেরই সন্তান!

রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জেলা শহরের মেম্বার পাড়া, রাজার মাঠ, আর্মিপাড়া, রেস্ট হাউস, উজানী পাড়া, ৩ নম্বর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সদরে ৪৫ জন, লামায় ১৩ জন, আলীকদমে ১৯ জন ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। নেতৃত্বে ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার মহোদয় নিজেই। সাথে ছিলেন এএসপি তাসলিম হুসাইন, ওসি মাসুদ পারভেজ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ সুপার মহোদয় বলেছেন, যাচাই চলছে, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নিরপরাধদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে। এই কথাটা মানবিক।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই কিশোররা কেন গ্যাং হলো?
চুরি, মাদক, আড্ডা – এই পথে কেন গেল? এর দায় কার? শুধু কি পুলিশের?

এর দায় আমাদের – পরিবারের, সমাজের। আমরা সন্তানকে সময় দিচ্ছি না। মোবাইল হাতে দিয়ে দায় সেরে ফেলছি। সন্ধ্যার পর সে কোথায় যায়, কার সাথে মেশে, খবর রাখছি না।

আমি পুলিশের এই অভিযানকে স্যালুট জানাই। বান্দরবানের আইন-শৃঙ্খলা সুদৃঢ় রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকা উচিত – এটা অভিভাবকরাও চায়।

কিন্তু আটকের পরের কাজটা আরও গুরুত্বপূর্ণ। এদেরকে শুধু ছেড়ে না দিয়ে কাউন্সেলিং করা হোক। এদের বাবা-মাকে ডেকে সচেতন করা হোক। স্কুল-কলেজে সচেতনতা বাড়ানো হোক।

৮০ জন আটক মানে ৮০ টা পরিবারের ঘুম হারাম। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের সন্তানদের বাঁচাই। পুলিশ একা পারবে না, আমাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
৮০ জন কিশোর আটক! এরা অপরাধী, নাকি আমাদের ব্যর্থতা?