হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ১৮ নম্বর মুড়িয়াউক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম জলাবদ্ধতা। গত প্রায় এক দশক ধরে অব্যাহত এই সমস্যার কারণে সামান্য বর্ষণেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ হাঁটুপানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
​স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়; দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অবকাঠামোগত অবহেলার চিত্র বছরের পর বছর ধরে একইভাবে রয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়ে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই পুরো স্কুল মাঠ ও চারপাশ পানিতে সয়লাব হয়ে পড়ে। সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে এই পানি আটকে থাকে।
​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে যায় এবং তা বের হওয়ার উপযুক্ত কোনো সুব্যবস্থা বা নালা না থাকায় পানি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। পানি জমে থাকার ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে প্রচণ্ড বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়টির শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
​বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী তাদের কষ্টের কথা জানিয়ে বলে, বৃষ্টি হলেই তারা স্কুলে আসতে ভয় পায়। মাঠজুড়ে পানি জমে থাকার কারণে পুরো এলাকা পিচ্ছিল হয়ে যায়, ফলে যেকোনো সময় পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ইতোমধ্যে বহু শিক্ষার্থী কাদাপানিতে পড়ে গিয়ে জামাকাপড় ও বই-খাতা ভিজিয়ে নষ্ট করেছে। এই মারাত্মক দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ভয়ে বর্ষার দিনে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়, যা তাদের নিয়মিত পড়াশোনা ও ফলাফলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
​এদিকে, বিদ্যালয়টির সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন লাখাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব মোঃ জামাল উদ্দিন। তিনি মুঠোফোনে জানিয়েছেন যে, বিদ্যালয়টির সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে এবং বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।
​এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই অবর্ণনীয় কষ্ট থেকে কোমলমতি শিশুদের মুক্তি দিতে এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলী। তাদের জোর দাবি—অবিলম্বে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উঁচুকরণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্থায়ী নালা বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।