প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো একটি শিশুর জীবনের ভিত্তি গড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কিন্তু সেই ক্লাসরুমেই যখন শিক্ষক নিজে টেবিলের ওপর মাথা নিচু করে গভীর ঘুমে মগ্ন থাকেন, আর সামনে বেঞ্চে চুপচাপ বসে থাকে কিছু নিষ্পাপ শিশু—তখন পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই যেন কা’ঠগড়ায় দাঁড়ায়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি দৃশ্য এমন প্রশ্নই সামনে এনেছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই দৃশ্যে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে টেবিলের ওপর মাথা নিচু করে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন এক শিক্ষিকা। আর তার সামনে পাঠদানের অপেক্ষায় নির্লিপ্ত ও চুপচাপ বসে রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো একটি পবিত্র স্থানে দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন চরম দায়িত্বহীনতা ও পেশাদারিত্বের অভাব দেখে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, শিক্ষকদের স্কেল বৃদ্ধি এবং সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য কত উদ্যোগই না নিচ্ছেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে যদি দায়িত্বে এমন অবহেলা অব্যাহত থাকে, তবে সরকারের এত আয়োজন আর আধুনিকীকরণের সুফল সাধারণ মানুষ কীভাবে পাবে?

অবশ্য স্থানীয়রা এও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, সব শিক্ষক কখনোই এক নন। বহু শিক্ষক অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে হৃদয় দিয়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে হাতে গোনা দু-একজন দায়িত্বজ্ঞানহীন শিক্ষকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাণ্ড পুরো প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে এবং সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় মারাত্মাক আঘাত হানে।

গ্রামগঞ্জের এই সহজ-সরল কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেন আর কোনো অবহেলা না হয়, সে বিষয়ে জোর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সুধী সমাজ। তাদের মতে—শুধু সরকারি বরাদ্দ বা আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়, ক্লাসরুমে শিক্ষার সঠিক পরিবেশ এবং শিক্ষকদের কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সরকারের পক্ষ থেকে এত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও যদি এমন চিত্র দেখতে হয়, তবে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।