হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মর্তুজ আলী ব্রিজ থেকে সাতাউক পর্যন্ত দীর্ঘদিনের চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও বেহাল সড়কটি অবশেষে নিজ উদ্যোগে সংস্কার করেছেন স্থানীয় টমটম চালক ও সমিতির সদস্যরা। চরম জনদুর্ভোগ লাঘবে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে স্বেচ্ছাশ্রমে এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন তারা।
​এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে কাদা-পানির একাকার দশা তৈরি হতো। ফলে এই পথে চলাচলকারী টমটম, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনকে নিয়মিত মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। প্রায়ই ঘটে যেত ছোটখাটো দুর্ঘটনা।
​কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও স্থায়ী কোনো সমাধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসেন স্থানীয় টমটম চালকরা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত আটটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিজেদের অর্থায়ন এবং শারীরিক শ্রমে সড়কের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে মাটি, ইট ও বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করে তোলেন তারা।
​এদিকে, চালকদের এই মহতী উদ্যোগের পুরো বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভের মাধ্যমে তুলে ধরেন মুড়িয়াউক ইউনিয়নের মো. হাবিবুর রহমান। একইসঙ্গে শ্রমজীবী এসব মানুষের কষ্ট ও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তাদের জন্য বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করেন তিনি।
​স্থানীয় টমটম সমিতির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, রাস্তার বেহাল দশার কারণে একদিকে যেমন তাদের কর্মের বাহনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীরাও পোহাচ্ছিলেন সীমাহীন দুর্ভোগ। তাই কারো আশপাশে মুখিয়ে না থেকে নিজেদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতেই তারা এই সাময়িক সংস্কারের উদ্যোগ নেন।
​সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল টমটম চালকদের এই সামাজিক উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে চালকদের এই সাময়িক প্রচেষ্টার পাশাপাশি জনদুর্ভোগের স্থায়ী চিরতরে অবসানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সড়কটির পাকা সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।