যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে দূরে রাখা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা। বিবাহিত ও অবিবাহিত দলের জমজমাট এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে লেবুতলা গ্রামে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামের মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। লেবুতলা যুবসমাজের আইকন হিসেবে পরিচিত শ্রী সমেশ বৈরাগীর উদ্যোগে আয়োজিত খেলায় সার্বিক সহযোগিতা করেন দিলীপ মন্ডল।
খেলার শুরু থেকেই বিবাহিত ও অবিবাহিত দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একের পর এক আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ আর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে উত্তেজনায় ভরে ওঠে পুরো মাঠ। নির্ধারিত সময় শেষে উভয় দল ১-১ গোলে সমতা নিয়ে খেলা শেষ করে। প্রতিযোগিতাপূর্ণ এ ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দর্শকদের মধ্যে ছিল টানটান উত্তেজনা।
ঐতিহ্যবাহী এ খেলা উপভোগ করতে লেবুতলা ও আশপাশের এলাকার যুবসমাজ, মুরুব্বি, বয়োজ্যেষ্ঠ, নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ মাঠে উপস্থিত হন। দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস আর খেলোয়াড়দের উৎসাহ প্রদানে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।
খেলায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সামাজিক ও ক্রীড়ামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা বলেন, অবসর সময়ের সঠিক ব্যবহার না হলে অনেক তরুণ অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে মাদকের মতো ভয়াবহ আসক্তি থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তারা আরও বলেন, যুবসমাজকে মাঠমুখী করে মাদকমুক্ত ও সুস্থ-সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই লেবুতলা গ্রামে এ হাডুডু খেলার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং তারা মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে।