মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দক্ষিণ পাইকসা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবাসহ মো. সোহেল ও বাদশাহ নামের দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সফল অভিযানের পরও স্বস্তিতে নেই স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, বাহক ও খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতারা এখনো দক্ষিণ পাইকসা গ্রামেই বহাল তবিয়তে রয়েছে এবং তাদের ক্ষমতার প্রভাবে পুরো গ্রাম আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে।
​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ পাইকসা গ্রামের একটি চক্র এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার চালিয়ে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবাসহ সোহেল ও বাদশাকে হাতেনাতে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদকের কারবারে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
​এদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ভিন্ন চিত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত সোহেল ও বাদশাহ কেবল মাদকের বাহক ও খুচরা বিক্রেতা মাত্র। এই মাদক সাম্রাজ্যের আসল গডফাদার ও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে। মাদকের আগ্রাসনে দক্ষিণ পাইকসা গ্রামের যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে। উঠতি বয়সি তরুণেরা জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। মূল হোতারা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ গ্রামবাসী তাদের ভয়ে জিম্মি ও সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছে। প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছে না কেউ।
​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দক্ষিণ পাইকসা গ্রামকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
​এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকের মূল হোতা যেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।