চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে ট্যাংক বিস্ফোরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহত সেনাসদস্যরা হলেন–
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মুন্সি সর্দার বাড়ির এবি সিদ্দিক পিয়াস এবং রাজশাহী জেলার দামকুড়া থানার বিন্দারামপুর গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে রিফাত। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তা হলেন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন মির্জা (বিএ-১০৫৮৫)।
ঘটনার বিবরণ:
আইএসপিআর জানায়, বুধবার সকালে হাটহাজারী ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর নির্ধারিত রুটিন ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলছিল। অনুশীলনের একপর্যায়ে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ (শেলিং) করার মুহূর্তে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কারণে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই সৈনিক পিয়াস ও সৈনিক রিফাত মৃত্যুবরণ করেন এবং ট্যাংকে থাকা ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন মির্জা মারাত্মকভাবে আহত হন।
উন্নত চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা:
দুর্ঘটনাকবলিত সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন মির্জার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সিএমএইচে বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন:
অনুশীলনের মতো সুরক্ষিত ও নিবিড় তদারকিতে থাকা স্থানে কীভাবে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত দলটি দুর্ঘটনাকবলিত ট্যাংক, ব্যবহৃত গোলাবারুদ এবং সংশ্লিষ্ট পারিপার্শ্বিক বিষয়সমূহ কারিগরিভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনী ও নিহতদের নিজ নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।