৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
“মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-ফয়সাল সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হাসিবুল হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা সোনা মিত্র চাকমা, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জমির উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার সক্ষমতা নয়; এটি মানুষের সচেতনতা, দক্ষতা, আত্মনির্ভরতা ও উন্নত জীবনযাপনের অন্যতম ভিত্তি। একটি সচেতন, দক্ষ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সাক্ষরতার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সাক্ষরতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বসবাসকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নিরক্ষরতা একটি সমাজের উন্নয়নের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। পার্বত্য অঞ্চলে নিরক্ষরতা দূর করতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, সমাজ, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, দুর্গম এলাকার শিশু-কিশোরদের বিদ্যালয়মুখী করার পাশাপাশি ঝরে পড়া রোধ, প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার প্রতি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠীই পারে একটি এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি শক্তিশালী করতে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, জ্ঞাননির্ভর ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে থানচির দুর্গম পাহাড়ি জনপদে ‘সবার জন্য শিক্ষা, সবার জন্য সাক্ষরতা’—এই প্রত্যয় আরও জোরালো করার বার্তা উঠে আসে।