০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার
আজকের বান্দরবান শুধু একটা উদ্বোধনের দিন না আজকের দিনটা হলো সরকারের একটা ঘোষণা – পাহাড়কে আমরা পিছিয়ে রাখবো না”।

পার্বত্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন* আজ যা বলেছেন সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
শান্তি ছাড়া এই অঞ্চলে কখনোই উন্নয়ন সম্ভব নয়”

এই একটা লাইনেই সরকারের পাহাড় নীতির সারমর্ম। আগে শান্তি, তারপর রাস্তা-স্কুল-হাসপাতাল।

আর কথার সাথে কাজও দেখালেন। ১২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আজ ২টা বড় ভবন উদ্বোধন হলো।

ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা – ছাত্রাবাস
বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ৩য় তলা ছাত্রাবাস উদ্বোধন।
এটা শুধু ইট-সিমেন্টের বিল্ডিং না। এটা হলো দূরের পাহাড় থেকে আসা ছেলেটার নিরাপদ থাকার জায়গা। পড়াশোনার পরিবেশ।
যখন একটা ছেলে ভালো পরিবেশে থাকবে, তখনই সে জিপিএ-৫ পাবে, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে।

জীবন বাঁচানোর জায়গা – হাসপাতাল
এমডিএস হাসপাতালের ব্লক-৩ ও ৪ এর ১ম ও ২য় তলা উদ্বোধন + ৩য় তলার ভিত্তিপ্রস্তর।
পাহাড়ের মানুষের সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিল চিকিৎসা। জ্বর-সর্দি হলেও চট্টগ্রাম দৌড়াতে হতো। এখন নিজের জেলাতেই ভালো হাসপাতাল। সেনাবাহিনীর সেভেনফিল্ড এম্বুলেন্সের হাসপাতাল ভবনও এর অংশ। মানে জরুরি সেবাও পাওয়া যাবে।

মানুষের হাতে উপকরণ তুলে দেওয়া:-
সবচেয়ে সুন্দর কাজটা হলো শেষে। প্রতিমন্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে স্কুলে মাল্টিমিডিয়া, কৃষকদের পাওয়ার টিলার, নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ করলেন।
এর মানে সরকার শুধু বড় প্রজেক্ট না, ঘরের মানুষটার কথাও ভাবছে। একজন মা সেলাই মেশিন পেলে তার সংসার চলবে। একজন কৃষক পাওয়ার টিলার পেলে তার জমিতে ফসল বাড়বে।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামকে সমৃদ্ধশালী অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে”।

আজকের ৩টা কাজ – শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, জনগণের উপকরণ বিতরণ* – এই ৩টাই প্রমাণ করে সেই উদ্যোগ শুধু কাগজে নাই, মাঠে আছে।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন বলেন:
“শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার পাহাড়কে
সমৃদ্ধশালী অঞ্চল হিসেবে গড়তে চায়।”

‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে সমৃদ্ধশালী অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার’

টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি সমৃদ্ধশালী অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেছেন, পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শান্তি ছাড়া এই অঞ্চলে কখনোই উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল-কলেজের ছাত্রাবাস ও সেনাবাহিনীর সেভেনফিল্ড এম্বুলেন্সের হাসপাতাল ভবন উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অনুপ কুমার চাকমা, সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল ইসলাম, উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহম্মদ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষ লেঃ কর্নেল মো. কামরুল হাসান খান, সেভেনফিল অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল ডাঃ মোহাম্মদ সরফরাজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সজীব কান্তি রুদ্র, উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইয়াছির আরাফাতসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।