২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখ নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, মাদকের একটি বড় চালান মায়ানমার হতে নাফ নদী অতিক্রম করে সাবরাং বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অধিনায়ক, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সাবরাং এলাকা সংলগ্ন নাফ নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক বিজিবি’র আভিযানিক দল আনুমানিক ১৫০০ ঘটিকা হতে উক্ত এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।

পরবর্তীতে, আনুমানিক ১৬৩০ ঘটিকায় আভিযানিক দল একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাযোগে কয়েকজন ব্যক্তিকে দ্রুতগতিতে নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে। নৌকাটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবি নৌ-টহলদল নৌকাটিকে থামার সংকেত প্রদান করে। কিন্তু নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা বিজিবি’র সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নৌ-টহলদল তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়ার একপর্যায়ে মাদক পাচারকারীরা নৌকায় থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা নাফ নদীতে ফেলে দেয়। বিজিবি’র নৌ-টহলদলের তাৎক্ষণিক ও কৌশলী পদক্ষেপের ফলে ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাসহ নৌকায় থাকা ০৩ জন ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নদীতে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বস্তাটিতে ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ বিওপি’র আভিযানিক দল নাফ নদীতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন জালিয়াপাড়া এলাকা হতে বস্তাটি ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে। পরবর্তীতে বস্তাটি তল্লাশি করে এর ভেতর হতে সর্বমোট ১,৯০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। বিজিবি সদস্যদের গোয়েন্দা তৎপরতা, সার্বক্ষণিক নজরদারি, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত আভিযানিক দক্ষতার ফলে মাদকের এই বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।

আটককৃত মালামালের বিবরণ নিম্নরূপঃ
ইয়াবা ট্যাবলেট-১,৯০,০০০ পিস।
ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা-০১টি।

আসামিদের বিস্তারিত পরিচয় নিম্নরূপঃ
ক। মোঃ জামাল হোসেন (৩৮), পিতা-মৃত কবির আহম্মেদ, মাতা-মাইমুনা খাতুন, গ্রাম-কুলালপাড়া, পোস্ট-টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
খ। মোঃ এমরান (২৫), পিতা-শাহ আলম, মাতা-ফাতেমা খাতুন, গ্রাম-নোয়াপাড়া, পোস্ট-সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
গ। মোঃ ইসমাইল (২৪), পিতা-আবুল হোসেন, মাতা-নুরজাহান, গ্রাম-নোয়াপাড়া, পোস্ট-সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।

অধিনায়ক, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) বলেন, “বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত সকল ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। মাদক পাচারকারীরা যতই কৌশল পরিবর্তন করুক না কেন, বিজিবি’র গোয়েন্দা নজরদারি, নৌ-টহল এবং সমন্বিত আভিযানিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। দেশ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় টেকনাফ ব্যাটালিয়নের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।”

আটককৃত আসামি এবং জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।