মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকা গোয়ালীমান্দ্রা। দিন দিন এই এলাকাটি যেন মাদকের একটি নিরাপদ ট্রানজিট ও অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানে মাঝেমধ্যে খুচরা মাদক কারবারি বা পথচারী ক্রেতারা আটক হলেও মূল মাদক ব্যবসায়ীরা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রশাসন ছোটখাটো ক্রেতা বা খুচরা বিক্রেতাদের ধরতে ব্যস্ত থাকলেও মাদকের আসল শেকড় কেন উৎপাটন হচ্ছে না?
অনুসন্ধানে জানা যায়, গোয়ালীমান্দ্রা এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে কিছু মাদকদ্রব্য ও কারবারিকে আটক করছে, তবুও পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ায় স্থানীয় যুবসমাজ ও উঠতি বয়সীরা ধ্বংসের মুখে পড়ছে। মাদকের এই বিষবাষ্প এখন শুধু গোয়ালীমান্দ্রাতেই সীমাবদ্ধ নেই, আশপাশের গ্রামগুলোতেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, গোয়ালীমান্দ্রা থেকে স্থায়ীভাবে মাদক নির্মূল করতে হলে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযান যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন লৌহজং থানা পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। এছাড়া কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একা নয়, এর স্থায়ী সমাধানের জন্য গোয়ালীমান্দ্রার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ পাইকসা, হাড়িয়া এবং মৌছা মান্দ্রা গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন ও স্থানীয় এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে অচিরেই এই জনপদকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে, যা রক্ষা করবে আগামী প্রজন্মকে