দুর্গম পাহাড়ি জনপদের নানা সীমাবদ্ধতা, প্রতিকূলতা ও শিক্ষা-সংকটকে অতিক্রম করে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে বলীপাড়ার শিক্ষার্থীরা। তাদের এই অর্জনকে স্বীকৃতি, উৎসাহ ও সম্মান জানাতে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলীপাড়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বলীপাড়া ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট উবা থোয়াই মারমা, সাবেক সদস্য, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সাবেক রাজনৈতিক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মংসাই মারমা, সমন্বয়কারী, গণসংহতি আন্দোলন, থানচি উপজেলা শাখা এবং উহ্লাশৈ মারমা, আহ্বায়ক, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অং ম্যা থোয়াই মারমা, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বলীপাড়া ইউনিয়ন শাখা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন থানচি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মংবোয়াংচিং মারমা (অনুপন), বলীপাড়া বাজার মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল গণি এবং বলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্যশৈমং। অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জোরালো দাবিঃ
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা কোনো দয়া, অনুগ্রহ বা করুণার বিষয় নয়—এটি তাদের ন্যায্য অধিকার। অথচ দুর্গম জনপদের শিক্ষার্থীদের এখনও নানা সীমাবদ্ধতা ও বাস্তব সমস্যার মধ্য দিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
তারা বলেন, শুধু শহর ও অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করলেই চলবে না। পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্যও মানসম্মত শিক্ষা, পর্যাপ্ত শিক্ষক, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, উন্নত অবকাঠামো এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
‘সুযোগ পেলে পাহাড়ের শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই’
বক্তারা বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাফল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও সহায়ক পরিবেশ পেলে পাহাড়ের শিক্ষার্থীরাও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যেতে পারে।
তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যকে শুধু একদিনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে হবে এবং তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
সংবর্ধনায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দিয়ে অতিথিরা তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।
আয়োজকরা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি পুরো এলাকার জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার।
বলীপাড়ার এই সংবর্ধনা তাই শুধু কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মান জানানোর আয়োজন নয়; দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সুযোগ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।