কুমিল্লা বুড়িচংয়ে মাদক সংক্রান্ত বিরোধে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক কলহ শেষ পর্যন্ত গড়ালো হত্যাকান্ডে! বেশকিছু দিন ধরেই আইয়ুব আলির মাদকাসক্ত দুই ছেলের মাঝে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বড় ভাই শাকিল(৩২)এর হাতে ছোট ভাই জাকির(২৮) এর প্রাণ হারাতে হলো।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১টায় উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কাকিয়ারচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের নবী মেম্বার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, পারিবারিক বিষয় ও মাদকের লেনদেন নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। বাড় ভাই শাকিল বাড়িতে থাকতেন না। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িতে আসে, বাড়িতে এসে শাকিল কে দেখতে পেয়ে দুজনের মাঝে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। এ সময় জাকিরকে বেধড়ক মারধর করে বড় ভাই শাকিল। মাথার পেছনে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে লাঠি ও ধারালো বস্তু দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো হয় জাকিরকে। আর এতেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পর পরিস্থিতি খারাপ দেখে পালিয়ে যায় শাকিল।

এ ঘটনার পর পুলিশ কে না জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও জানায় স্থানীয়রা। সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় স্থানীয় চৌকিদার মোকলেসকে বিষয়টি জানানো হলে, সে থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল তৈরির কার্যক্রম শুরু করেন।

পুলিশ জানায়, নিহত জাকির হত্যা সহ একাধিক মামলার আসামী, মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার একাধিকবার বিরোধের ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনার দিন মাদক ব্যবসার টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে দু ভাইয়ের বিরোধের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

জাকিরকে মারধরের ঘটনায় শাকিলের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে শোনা যায়। তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জাকিরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মরদেহের ময়নাতদন্ত, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ সহ আইনগত প্রক্রিয়া চলছে জানিয়েছে পুলিশ।

এবিষয়ে কুমিল্লা বুড়িচং থানাধীন দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) সুরেজীত বড়ুয়া জানান, ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ায় অভিযুক্তদের আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে এবিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।