ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলাচলকারী লোকাল বাস সার্ভিস ‘প্রান্তিক সুপার’-এর বিরুদ্ধে টিকিট সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং অপেশাদার আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাস কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত মুনাফালোভ ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এই রোডে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা। যাত্রী সেবার মানে আধুনিকায়নের এই যুগেও বাস সার্ভিসটি যেন পিছিয়ে রয়েছে অন্তত দুই যুগ।
৫০ কিলোমিটার পথ পেরোতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা
ময়মনসিংহ থেকে মধুপুরের দূরত্ব মাত্র ৫০ কিলোমিটার। অথচ এই পথটুকু অতিক্রম করতেই প্রান্তিক সুপার সময় নিচ্ছে প্রায় ২ ঘণ্টারও বেশি। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়ার লোভে চালক ও হেলপাররা নির্দিষ্ট কাউন্টার ছাড়াও বিভিন্ন মোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলে। গত ২৪ আগস্ট (রবিবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ময়মনসিংহ শহরের টাঙ্গাইল বাস স্ট্যান্ড কাউন্টারে মধুপুরগামী যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকা করে ৩৮টি আসন সম্পূর্ণ বিক্রি করা হয়। কিন্তু বাস ছাড়ার আগে বিনে বাক্যে আরও অতিরিক্ত যাত্রী তুলে গাদাগাদি অবস্থা তৈরি করা হয়।
ইঞ্জিনের কভার থেকে টুল বক্স—বসার স্থান সর্বত্র!
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাসের ৩৮টি আসন পূর্ণ হওয়ার পরও বাড়তি উপার্জনের উদ্দেশ্যে ইঞ্জিনের কভারের (বনাট) ওপর টিকিট কেটে বসানো হয় ৬ জন যাত্রীকে। চালকের পেছনে থাকা কাঠের টুল বক্সে ২ জন এবং হেলপারের টুলে আরও ২ জন বসিয়ে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, গাড়ি ছাড়ার নির্দেশ থাকলেও প্রধান সড়কে প্রায় ৪০ মিনিট ইঞ্জিন চালু করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এ সময় বাসের ভেতরের করিডোর এবং ছাদের মালামাল রাখার সানসেটের রড ধরে দাঁড়িয়ে থাকা অন্তত আরও ২০ জন যাত্রীকে তোলা হয়।
খানাখন্দ আর কাদা-জলে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ময়মনসিংহ-মধুপুর সড়কের বিভিন্ন অংশে বর্তমানে সংস্কারকাজ চলায় রাস্তা জুড়ে বড় বড় খানাখন্দ ও গর্ত তৈরি হয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে হেলতে-দুলতে গাড়ি চালান চালকরা। মাঝপথের কাদামাটিতে বাসের চাকা আটকে গেলে যাত্রী নামিয়ে ঠেলে গাড়ি উদ্ধার করতে হয়—এমন ঘটনাও প্রায়ই ঘটে। জীবনের ঝুঁকি জেনেও পৌঁছানোর তাগিদে নিরুপায় হয়েই যাত্রীদের এই ভোগান্তি সহ্য করতে হয়।প্রতিবাদ করলেই আত্মসম্মানহানির ভয়
পরিবহন কর্মীদের অপেশাদার ও উদ্ধত আচরণের কারণে কোনো যাত্রী প্রতিবাদ করার সাহস পান না। আত্মসম্মানহানির ভয়ে চুপচাপ সহ্য করা ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের আর কোনো উপায় থাকে না। ভুক্তভোগীদের মতে, এই রোডে তাদের ভোগান্তি শোনার কিংবা প্রতিকার করার মতো কেউ নেই।উন্নত বাস সার্ভিসের দাবি
সড়ক পরিবহন খাতে দেশ জুড়ে আধুনিক ছোঁয়া লাগলেও প্রান্তিক সুপারের মতো বাস সার্ভিসগুলো এখনও এনালগ যুগের বিশৃঙ্খলা ধরে রেখেছে। ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল রোডে অবিলম্বে সিন্ডিকেট দূর করে আধুনিক ও উন্নত মানের বাস সার্ভিস চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা।