বান্দরবান পার্বত্য জেলার থানচি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বলীপাড়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ‘অভিভাবক সমাবেশ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদানের লক্ষ্যে এ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল গণি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহাথের গাইদামালা, অধ্যক্ষ, আইলমারা বৌদ্ধ বিহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪ নম্বর বলীপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ক্যসাউ মারমা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, চেতনা ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে আমন্ত্রিত অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন।
এ সময় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা স্মারক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগ ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল গণি বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ফলাফল বৃদ্ধি এবং পড়ালেখার পরিবেশ আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রাণবন্ত পরিবেশে আয়োজিত এ অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা আরও বৃদ্ধি পায়।