কক্সবাজার পৌর এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় দুবাই প্রবাসী ওমর ফারুককে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও ১ নম্বর আসামি নাহিদ মোর্শেদ চাঁদ (২৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫। গতকাল ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকেল ১৭:৫০ ঘটিকায় কক্সবাজার সদর থানার খুরুলিয়া ইউনিয়নের মকবুল সওদাগর পাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত ওমর ফারুক একজন দুবাই প্রবাসী ও কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পেশকারপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। একটি স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয় এবং পূর্বেও তার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। ​এরই জের ধরে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় প্রধান আসামি নাহিদ মোর্শেদ চাঁদ, তার সহযোগী ওয়াহিদ মোর্শেদ ছাহিদ ও সৈয়দ আকবর সহ অন্যান্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওমর ফারুকের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয় এবং লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে ওমর ফারুক মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-১৫ ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে র‍্যাব-১৫, ব্যাটালিয়ন সদরের একটি আভিযানিক দল খুরুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি নাহিদ মোর্শেদ চাঁদ (পিতা: মোঃ আবু তাহের, পেশকার পাড়া)-কে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার বিবরণী পর্যালোচনায় জানা​ যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পূর্বেও কক্সবাজার সদর থানায় মারামারি ও হত্যাচেষ্টার অপরাধে মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় র‍্যাব-১৫-এর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।