২০২৬ সনের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের সাফল্য নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে নরসিংদীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘নাসিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস্’। শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার পেছনে ‘নিয়ম-বহির্ভূত কৌশল’ ও অসদুপায় অবলম্বনের প্রাথমিক সত্যতা ও অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা শাখা থেকে ইস্যুকৃত এক জরুরি নোটিশে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষককে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে আগামী ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু
শিক্ষা বোর্ড সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় ও অস্বাভাবিক ফলাফলের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহল থেকে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়:
* কেন্দ্রীয় প্রভাব ও অসদুপায়: পরীক্ষার কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ও নিয়ম-বহির্ভূত কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।
* ফলাফল কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ: অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে বাধা প্রদান কিংবা অন্য কেন্দ্র/প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়ানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ‘শতভাগ জিপিএ-৫’ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা
ঢাকা বোর্ডের জারি করা চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং তা পাবলিক পরীক্ষার শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির পরিপন্থী। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত নির্দেশে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানে ব্যর্থ হলে অথবা প্রদত্ত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলসহ পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় ও অভিভাবক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর নরসিংদীর সুশীল সমাজ ও সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, মেধা তালিকার শীর্ষ স্থান ধরে রাখতে কিছু বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত অনৈতিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে অভিভাবকরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষযে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। চিঠির জবাব ও স্ব-শরীরে উপস্থিত হওয়ার পরই বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।