বান্দরবান, সুয়ালক একসময় দুর্গম পাহাড়ে ম্রো জনগোষ্ঠীর শিশুদের হাতে বই নয়, দেখা যেত জুমচাষের সরঞ্জাম। শিক্ষার হার ছিল শূন্য। সেই অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার নাম সুয়ালক ম্রো আবাসিক বিদ্যালয় ।

১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের সুয়ালকের মাঝেরপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিদ্যালয়। আর এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম।

১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বান্দরবান সফরে এলে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী অংশৈপ্রু চৌধুরী ম্রো জনগোষ্ঠীর শিক্ষা বঞ্চনার কথা তাঁকে জানান। দ্বিতীয় বৃহত্তম পাহাড়ি জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার হার শূন্য শুনে রাষ্ট্রপতি বিস্মিত হন। তিনি একটি আবাসিক বিদ্যালয়সহ ম্রো কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। ১৯৮১ সালের ১৬ জানুয়ারি তিনি আবার এসে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি পুকুর পুনঃখননের কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার পেছনের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বান্দরবান সফরে এলে তাঁর বাবা, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী অংশৈপ্রু চৌধুরী, ম্রো জনগোষ্ঠীর শিক্ষা বঞ্চনার বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নজরে আনেন। তখন জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম পাহাড়ি জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও ম্রোদের শিক্ষার হার ছিল শূন্য। বিষয়টি জেনে রাষ্ট্রপতি বিস্মিত হন। তখন তিনি একটি আবাসিক বিদ্যালয়সহ ম্রো কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। পরের বছর বিদ্যালয়টি চালু হয়। ১৯৮১ সালের ১৬ জানুয়ারি তিনি আবার সুয়ালকে এসে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

৪ দশকে বিদ্যালয়টি ম্রো জনগোষ্ঠীর কাছে “মাইতং” – জাগরণের আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছে।
শিক্ষার হার: শূন্য থেকে ১৫-২০%
বর্তমান শিক্ষার্থী: ৩০০ জন। ২৮৭ জন ম্রো, ১৩ জন খুমি
-এসএসসি ফল: ১৯৮৯ থেকে ৮৩৮ জন অংশ নিয়ে ৪৯১ জন উত্তীর্ণ।

যারা এই স্কুল থেকে উঠে এসেছেন: মৌজাপ্রধান রাংলাই ম্রো, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য সিংইয়ং ম্রো, ডা: জ্যোতিময় ম্রো,লেখক ইয়াংঙান ম্রো,গিনেস রেকর্ডধারী প্রেনচ্যুং ম্রো,থানচির সাবেক চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো সহ সমাজের নেতৃত্ব, শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনেকেই এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ম্রো অধ্যুষিত এলাকায় আজও কোনো উচ্চবিদ্যালয় বা কলেজ নেই। তাই স্থানীয়দের দাবি, জাগরণের এই বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করা হোক।

প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, এই বিদ্যালয় শুধু শিক্ষিত মানুষ তৈরি করেনি, নেতৃত্বও তৈরি করেছে। একটি বিদ্যালয় একটি জনগোষ্ঠীর অগ্রগতির পথযাত্রায় কত বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ সুয়ালক ম্রো আবাসিক বিদ্যালয়। রুমা ম্রো আবাসিক বিদ্যালয়,থানচিতে আশার আলো ছাত্রাবাস ও আলীকদমে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আলীকদম ম্রো কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার পেছনেও এই শিক্ষিত প্রজন্মের অবদান রয়েছে। পরে শান্তিচুক্তির পর বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ছোট ছোট বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করায় ম্রো শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও বেড়েছে।