বরিশাল থেকে চুরি যাওয়া একটি ইয়ামাহা এফজেডএস ভি-৩ মোটরসাইকেল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মধ্যরাতে উপজেলার পাটগাতী এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বাসিন্দা মো. আরিফ (৪৮), পিতা—মো. আ. মজিদ খান, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় বাদী হয়ে গত ২৭ জুলাই বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলা করেন। মামলায় বরিশালের বন্দর থানার বাসিন্দা মো. রানা শরীফ (২৪), পিতা—হালিম শরীফসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি সিআর ১৩৭৩/২৭, কোতয়ালী থানা, বিএমপি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।

মামলার তদন্তের সূত্র ধরে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আইয়ুব আলীর দিকনির্দেশনায় এসআই মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল পাটগাতী এলাকায় অভিযান চালায়। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একটি নির্জন স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ইয়ামাহা এফজেডএস ভি-৩ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে এসআই মো. নাজমুল ইসলামকে সহযোগিতা করেন টুঙ্গিপাড়া থানার এএসআই মো. জাবেদ হোসেন, এএসআই মো. সবুজ ও কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি বরিশাল থেকে শুক্রবার (২৪/০৭/২৬) তারিখ আনুমানিক রাত ১০:৩০ সময় চুরি হয়েছিল। তবে চুরির পর মোটরসাইকেলটি কীভাবে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছাল, কারা এটি সেখানে রেখে গেছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মো. আইয়ুব আলী বলেন, “চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সফলতা অর্জন করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

এদিকে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি আইনি প্রক্রিয়া শেষে মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজের মোটরসাইকেল ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মালিক মো. আরিফ। তিনি বলেন, “এত তাড়াতাড়ি মোটরসাইকেলটি উদ্ধার হয়ে আবার হাতে পাবো, এটা ভাবতেই পারিনি। পুলিশ যেভাবে দ্রুত এটি উদ্ধার করেছে, তাতে আমি খুবই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।”

চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতায় স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।