দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা। দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটন খাত।

এদিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী এলাকায় নাফ নদীর তীরে অবস্থিত টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি লিমিটেডের ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। প্রায় ৮৭ হাজার সোলার প্যানেল নিয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকনাফেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও সেই বিদ্যুতের সুবিধা থেকে এ অঞ্চলের মানুষ বঞ্চিত। তাদের দাবি, কারিগরি ও নীতিগতভাবে সম্ভব হলে আলীখালী সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ টেকনাফে সরবরাহ করা হলে চলমান লোডশেডিং অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও হ্রাস পেত।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, উৎপাদনকেন্দ্রের পাশেই বসবাস করেও তারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকছেন। তাই টেকনাফের চাহিদা বিবেচনায় বিদ্যুতের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আলীখালী সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের স্থানীয় ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তবে বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ কোথায় সরবরাহ করা হবে, তা জাতীয় গ্রিডের লোড ব্যবস্থাপনা, সঞ্চালন সক্ষমতা ও সরকারের নীতিমালার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।