মঞ্চের আলো জ্বলতেই বদলে যায় ১১ বছরের এক সাধারণ শিশুর রূপ। ভরাট কণ্ঠে কবিতার ছন্দ, গল্প বলায় চরিত্রের প্রাণদান, নিপুণ অভিনয় কিংবা প্রাণবন্ত উপস্থাপনা—সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিটি শাখাতেই তার অনায়াস বিচরণ। বহুমুখী প্রতিভার এমনই এক উজ্জ্বল ও বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত পিরোজপুরের শিশু শিক্ষার্থী ইছা আল মাহিম।

​সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ প্রতিযোগিতায় সারা দেশের হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে আবৃত্তি ও গল্পবলা—এই দুটি মর্যাদাপূর্ণ বিভাগে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে মাহিম। অসামান্য এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গণভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে দুটি স্বর্ণপদক গ্রহণ করে এই খুদে প্রতিভা।

​সাফল্যের বহুমাত্রিক স্মারকলিপি

মাহিমের এই গৌরবময় যাত্রা কেবল দুটি স্বর্ণপদকেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগেও প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় ‘অভিনয়’ বিভাগে অংশ নিয়ে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছিল সে। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’-তে আবৃত্তি বিভাগে অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে মাহিম। নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি ও অভিনয়—সবকটি মাধ্যমেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে সে।

​পড়াশোনা ও সংস্কৃতিচর্চার চমৎকার সমন্বয়

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিরবিচ্ছিন্ন উপস্থিতি থাকলেও পড়াশোনায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না মাহিম। পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়’-এর পঞ্চম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষের ফলাফল ও মেধা তালিকায় বরাবরই প্রথম স্থান ধরে রেখেছে।

​বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক প্রতিযোগিতায় মাহিমের এই অভূতপূর্ব অর্জন পুরো পিরোজপুর জেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গর্বের। সঠিক দিকনির্দেশনা ও চর্চা বজায় থাকলে মাহিম ভবিষ্যতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের এক বড় সম্পদে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

​পেছনে পিতা-মাতার অবদান

মাহিমের এই বিস্ময়কর অর্জনের নেপথ্যে রয়েছে তার পিতা-মাতার নিরলস শ্রম ও উৎসাহ। ঘরের চার দেয়ালে আটকে না রেখে সন্তানের সুপ্ত মেধার বিকাশে তারা শুরু থেকেই পাশে থেকেছেন। মাহিমের বাবা-মা জানান, সন্তানের পছন্দের প্রতি তারা সর্বদা শ্রদ্ধাশীল এবং তাকে একজন মানবিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

​ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও প্রত্যাশা

অর্জিত এই সাফল্য সম্পর্কে মাহিম বলে, “জাতীয় পর্যায়ের এই স্বীকৃতি আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আবৃত্তি, অভিনয় ও গান চর্চা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বড় পরিসরে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।”

​মাহিমের এই অনন্য প্রতিভা ইতোমধ্যে পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, উপযুক্ত পরিচর্যা ও অনুশীলনের সুযোগ পেলে আজকের এই শিশুটিই একদিন বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকাকে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরবে।