নরসিংদী শহরের নিরাময় হসপিটালে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকের অবহেলার কারণে এক প্রসূতি মা এখন মৃত্যুশয্যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ওই প্রসূতির জীবন বাঁচাতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ঘটনার বিবরণ:
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৪ তারিখে প্রসূতি বেদনা উঠে নরসিংদীর নিরাময় হসপিটালে ভর্তি করা হয়। হসপিটাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে দ্রুত সিজারিয়ান সেকশন (সিজার) অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় এবং পরবর্তী সময়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চরম অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।
অস্ত্রোপচারের পর থেকে রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়া এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা ৯ তারিখে আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে নিরাময় হসপিটাল নিয়ে আসলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়। বর্তমানে ওই প্রসূতি ঢাকার একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
স্বজনদের ক্ষোভ ও দাবি:
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, “নিরাময় হসপিটালের ভুল চিকিৎসা এবং সঠিক সময়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় আজ আমাদের স্বজনের এই অবস্থা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দালালচক্র ও অব্যবস্থাপনার কারণেই একটি পরিবার ধ্বংসের মুখে।”
প্রসূতির চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি বর্তমানে দিশেহারা। এমতাবস্থায়, প্রসূতির সঠিক চিকিৎসা সুনিশ্চিত করা এবং দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সরাসরি সহযোগিতা ও আশু হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন স্বজনরা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এ বিষয়ে নিরাময় হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, প্রসূতির সিজারিয়ানের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনেই চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। অস্ত্রোপচার পরবর্তী জটিলতা যেকোনো রোগীর ক্ষেত্রেই হতে পারে।
এদিকে নরসিংদী সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিরাপদ মাতৃত্বের জায়গায় এ ধরনের বারবার ঘটে যাওয়া চিকিৎসাজনিত অবহেলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান সচেতন মহল।