কিশোরগঞ্জের কূলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ভাটিপাড়া তুলা মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের তমুর উদ্দীন গুদারা ঘাট পর্যন্ত চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় ১৬ ফুট প্রস্থ ও ১ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের সরকারি রেকর্ডভুক্ত এই রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে বর্তমানে জনসাধারণের চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

শুধু তা-ই নয়,এই রাস্তার ওপর নির্মিত পুরনো ব্রিজটি অত্যন্ত সরু ও জড়াজীর্ণ হওয়ায় এর ওপর দিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,একসময় এই রাস্তার পশ্চিম প্রান্তে ঐতিহ্যবাহী ব্রহ্মপুত্র নদের তমুর উদ্দীনের গুদারা ঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নদটি শুকিয়ে যাওয়ায় গুদারা (নৌকা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নদের ওপারে অবস্থিত পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার বিন্নাবাড়ি ইউনিয়নের সঙ্গে এই এলাকার যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পারের হাজার হাজার মানুষ।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এডভোকেট মশিউর রহমান বলেন, “রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করে পাকাকরণ, বিদ্যমান সরু ব্রিজটি ভেঙে প্রশস্ত করে পুনরায় নির্মাণ এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হলে এই এলাকা বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক উন্নত হবে। রাস্তার দুই পাশে পড়ে থাকা অনাবাদী জমিতে মুরগির খামার ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে,যা স্থানীয় ভাটিপাড়া এলাকার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।

যোগাযোগব্যবস্থার এই দূরবস্থা নিরসনে স্থানীয় ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো.আশরাফ মিয়া,সাবেক সভাপতি ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো.সবুজ মিয়া,সদস্য নূরুল আমিন,১৮নং দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি রুহুল আমিন এবং ভাটিপাড়া বিটি বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো.মোশারফ হোসেনসহ সর্বস্তরের এলাকাবাসী তাদের প্রাণপ্রিয় নেতা কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো.শরীফুল আলম-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুততম সময়ে মধ্যে ১৬ ফুট প্রস্থ ও ১ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের এ রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণ,সরু ব্রিজটি ভেঙে প্রশস্ত করে পুনর্নির্মাণ,এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি জানান।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা,জনস্বার্থ বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী দ্রুত এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজগুলো বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।