নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভাবনচুর এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে চলা একটি জমি বিরোধের অবসান হয়েছে। স্থানীয়ভাবে একাধিক দফা সালিশ, থানায় অভিযোগ এবং দীর্ঘ আলোচনার পর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বিরোধপূর্ণ জমির ৩৮ শতাংশ স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেওয়ায় বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাবনচুর( হলদিবাড়ি) মৌজার ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ও মো. আউয়াল হোসেনের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। উভয় পক্ষই একই বিক্রেতার কাছ থেকে পৃথক সময়ে জমি ক্রয়ের দলিল থাকার দাবি করে আসছিলেন। আউয়াল হোসেনের পরিবারের দাবি, তাঁর বাবা ৮০ এর দশকে জমিটি ক্রয় করে ভোগদখল শুরু করেন। অপরদিকে নজরুল ইসলাম ২০০৮ সালে একই জমির দলিল গ্রহণ করে জোরপূর্বক দখল এবং ওই জমির মালিকানা দাবি করেন।জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আউয়াল হোসেনের পরিবার কয়েক দফা জলঢাকা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ কয়েক দফা আলোচনার পর গত ২৫ জুলাই ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বিরোধপূর্ণ ৫০ শতাংশ জমির মধ্যে ৩৮ শতাংশ জমি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে সম্মত হন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ওই জমির দখল মো. আউয়াল হোসেনের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশকের বিরোধের অবসান ঘটে।এলাকাবাসীর মতে, আদালতের বাইরে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসায় এ ঘটনা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান এবং এলাকার শান্তির স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছেছি।”অন্যদিকে মো. আউয়াল হোসেন বলেন, “অনেক বছর ধরে জমিটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছি। অবশেষে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জমির দখল ফিরে পেয়েছি।”